শহরে ডেঙ্গির পারদ ঊর্ধ্বমুখী, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১৩৯, কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে আশ্বাসের বার্তা!

আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করলেও কলকাতা মহানগরে মশা বাহিত রোগের পারদ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। বিগত এক সপ্তাহে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে ১৩৯ জন। অন্যদিকে, ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাও ৪ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি ভালো বলে আশ্বাস দিলেও তাতে ভরসা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা।📈 পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথাকলকাতা কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত শহরে মশা বাহিত রোগের পরিস্থিতি নিম্নরূপ:রোগের নামচলতি বছরে মোট আক্রান্ত (৯ নভেম্বর পর্যন্ত, ২০২৫)গত ৭ দিনে বৃদ্ধিগত বছরের এই সময়কালে আক্রান্তডেঙ্গি (Dengue)১,২৪৫ জন১৩৯ জন৯৩৬ জনম্যালেরিয়া (Malaria)৩,৯২৩ জন—৫,৩১৬ জনমূল উদ্বেগ:এক সপ্তাহ আগেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,১০৬ জন। অর্থাৎ, মাত্র সাত দিনের মধ্যে ১৩৯ জন নতুন করে ডেঙ্গির কবলে পড়েছেন।ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৯২৩ জন, যা শীঘ্রই ৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।কর্তৃপক্ষ গত বছরের তুলনায় (৯৩৬ জন) এই বছরের পরিস্থিতি (১,২৪৫ জন) খারাপ হওয়া সত্ত্বেও আগের বছরগুলোর তুলনায় ভালো বলে দাবি করছে।❌ বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ: নজরদারিতে গাফিলতিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে মশা বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্যোগে অনেকটাই কম নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।কম সচেতনতা: সচেতনতা অভিযান, লিফলেট বিলি, ফাঁকা জমি পরিষ্কার এবং পরিত্যক্ত বাড়ি পরিষ্কারের কাজ নামমাত্র হয়েছে।ড্রোন স্প্রে নেই: মশার ওষুধ স্প্রে করার জন্য ড্রোন ব্যবহার সেভাবে দেখা যায়নি।পুজোর পর শৈথিল্য: দুর্গা পূজার পর মণ্ডপগুলিতে মশার বংশ বিস্তার ঠেকানোর ক্ষেত্রে একাধিক ক্লাবের গাফিলতি দেখা গেলেও কর্পোরেশন কখনোই কঠোর মনোভাব নেয়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষও এই কাজকে গুরুত্ব দেয়নি।🗣️ কর্তৃপক্ষের দাবিনিয়মিত নজরদারির দাবি করে কলকাতা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নিজেদের পরিস্থিতি ভালো বলে যুক্তি দিয়েছে:”বছরভর আমাদের কর্মীরা নজরদারি চালায়। রোগ হবে না এমনটা নয়। গোটা দেশের পরিসংখ্যান নিলেই স্পষ্ট হয় যাবেন কলকাতা কতটা ভালো পরিস্থিতিতে আছে।”বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া দুটি রোগকে একসঙ্গে ধরলে আক্রান্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়, তাই কর্তৃপক্ষের কেবল আশ্বাস নয়, কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন।