লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ড, হামলার আগেই দুবাই পালানোর ছক কষেছিলেন অভিযুক্ত ডাক্তার শাহিন সাইদ, পাসপোর্টের জন্য আবেদন!

দিল্লির লালকেল্লার ১ নং গেটের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অভিযুক্ত চার ডাক্তার সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে অন্যতম হলেন শাহিন সাইদ। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনার আগেই অভিযুক্ত এই মহিলা ডাক্তার দুবাই পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

হামলার আগেই দুবাই পালানোর ছক
পুলিশ সূত্রে খবর, আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির এই ডাক্তার গত ৩ নভেম্বর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের ধারণা, তাঁর সহযোগীরা যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণের ছক কষছিলেন, ঠিক তখনই শাহিন সাইদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

তবে জম্মু এবং কাশ্মীর ও ফরিদাবাদে তাঁদের সহযোগীরা গ্রেফতার হতে শুরু করায় শাহিনের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

পাসপোর্ট আবেদন, কিন্তু ভেস্তে গেল প্ল্যান
পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময়েই ফরিদাবাদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এক পুলিশ আধিকারিক। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় তিনি শাহিনের ছবিও তোলেন। ওই সময়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁকে খুঁজছিল। অবশেষে গত ১১ নভেম্বর লখনউ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

ফরিদাবাদের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তাদের কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। শুধু বলা হয়েছিল যে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা ডাক্তারকে খোঁজা হচ্ছে, কারণ তিনি জম্মু-কাশ্মীরে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ লাগিয়েছিলেন। পরে তদন্ত এগোলে পুরো ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানা যায়।

তদন্তকারী সংস্থা এ পর্যন্ত মোট চারজন ডাক্তারকে চিহ্নিত করেছে, যারা মূলত জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) টেরর মডিউলে যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে।

ডাক্তারদের লাইসেন্স বাতিল
ইতিমধ্যেই, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল রেজিস্টার এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টার দুই সংস্থার পক্ষ থেকে এই চার ডাক্তার—মুজফফর আহমেদ, আবদেল আহমেদ রাথের, মুজামিল শাকিল এবং শাহিন সাইদের—মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে এই সন্ত্রাসবাদী ডাক্তাররা ভারতের কোথাও আর প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।