‘CAA ক্যাম্পের নামে প্রতারণা’! গরিব গ্রামবাসীদের থেকে ৪৬০ টাকা নিয়ে ‘হিন্দুত্ব কার্ড’ বানানোর অভিযোগ, কাকদ্বীপে শোরগোল।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (CAA)-এর আবেদনের সহায়তা ক্যাম্পের নামে প্রতারণা এবং গরিব গ্রামবাসীদের থেকে ‘হিন্দুত্ব কার্ড’ বানিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাসন্তী ময়দান এলাকায় তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ওই ক্যাম্পটি বন্ধ করে দিয়েছে।
সিএএ ক্যাম্পের আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ
অভিযোগ, বাসন্তী ময়দান এলাকায় দু’টি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে একটি সিএএ ক্যাম্প চালানো হচ্ছিল। ক্যাম্পের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদনকারীদের থেকে ৪৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু টাকার বিনিময়ে তাঁদের কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছিল না। শুধু আবেদনকারীদের ফোন নম্বর নিয়ে ১৫ দিন পরে ডাকা হবে বলে জানানো হচ্ছিল।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, শুধু সিএএ-এর আবেদন নয়, হিন্দুত্বের পরিচয়পত্র বা ‘হিন্দুত্ব কার্ড’ বানিয়ে দেওয়া হবে বলেও টাকা নেওয়া হচ্ছিল। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার প্রশ্ন তোলেন, “নিজের ধর্ম প্রমাণ করতে পরিচয়পত্র কেন লাগবে?” তিনি এই কাজের জন্য স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
এক আবেদনকারী প্রবীর দাস বলেন:
“শুনেছিলাম এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে, আর একটি হিন্দু পরিচয়পত্রও বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পে ৪৬০ টাকা জমা দিয়েছি। কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি, ১৫ দিন পর ফোন করে ডাকবে বলে মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত
এই খবর পাওয়ার পরই স্থানীয় পুলিশ ওই ক্যাম্পে হানা দেয়। যদিও পুলিশ পৌঁছনোর পর সেখানে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ দু’টি ঘর থেকে কয়েকটি কম্পিউটার উদ্ধার করে ক্যাম্পটি বন্ধ করে দিয়েছে।
কাকদ্বীপের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান:
“বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী CAA-র ক্যাম্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কী বিষয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিজেপির পালটা দাবি
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা অশোক পুরকাইত অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বা হিন্দুত্বের কার্ড তৈরি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন:
“হিন্দুত্বের কার্ড করে দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপির নেই। সিএএ-এর আবেদনপত্র পূরণের সহায়তা করার জন্য হয়তো কোথাও ক্যাম্প হয়ে থাকতে পারে। ওখানে শুধু আবেদনের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং তার রসিদও দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা তোলার অভিযোগ মিথ্যে। তৃণমূল নিজেদের বাঁচাতে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।”