দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে কোথায় ছিলেন উমর, নতুন CCTV ফুটেজ এলো প্রকাশ্যে

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের প্রধান অভিযুক্ত উমর সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক দিন আগে উমরকে ফরিদাবাদের একটি মোবাইল দোকানে দেখা গিয়েছিল। এই ভিডিওতে প্রথমবারের মতো তার মুখ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

ফুটেজে দেখা যায়, উমর একটি ব্যাগসহ দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে দোকানে ঢোকে। সে একটি ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য দোকানদারকে দেয় এবং অন্য ফোনটি নিজের কোলে রাখে। তবে, বিস্ফোরণস্থল থেকে যখন উমরের দেহ উদ্ধার হয়, তখন তার কাছ থেকে কোনো মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। যা তদন্তকারীদের কাছে একটি নতুন রহস্য তৈরি করেছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ডঃ উমর। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। উমরের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তার মায়ের নমুনার সঙ্গে মিলেছে।

তদন্তে জানা গেছে, উমর কাশ্মীরের আরও দুই ডাক্তার—ডঃ মুজাম্মিল ও ডঃ শাহিনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফরিদাবাদে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এদেরকেও আটক করা হয়েছে। তারা নিজেদের যোগাযোগ এবং হামলার পরিকল্পনা সমন্বয় করার জন্য সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ Threema এবং একটি গোপন সিগন্যাল গ্রুপ ব্যবহার করত।

পরিবার ও তদন্তকারী সংস্থার মতে, একসময় অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল ডাক্তার উমর গত দুই বছরে র‍্যাডিকাল মতাদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাকে বিভিন্ন উগ্রপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

পুলিশের দাবি, এই মডিউলটি নগদ ২৬ লক্ষ টাকার বেশি সংগ্রহ করেছিল। এই অর্থ বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী কেনার জন্য ডঃ উমরের হাতে দেওয়া হয়েছিল। গুরুগ্রাম, নুহ ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ২৬ কুইন্টাল NPK সার কেনা হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। অন্যান্য রাসায়নিকের সাথে মিশে NPK সার শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র জানিয়েছে, এই আটজন সন্দেহভাজন চারটি শহরে সমন্বিত হামলা চালানোর জন্য জোড়ায় ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে বিস্ফোরণের আগেই তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত হয়ে যাওয়ায় একটি বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।