ছোট্ট শহর বুনিয়াদপুরে রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্র, পুলিশি অভিযানে হোটেলের ম্যানেজার-সহ গ্রেফতার ১২

শুধু কলকাতা নয়, মফঃস্বল শহরগুলিতেও রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্রের কারবার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছোট্ট শহর বুনিয়াদপুরের কোর্ট মোড় এলাকার একটি হোটেলে পুলিশি অভিযানে আপত্তিকর অবস্থায় দুই পুরুষ ও সাতজন মহিলা-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বংশীহারী থানার পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য্য-এর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হোটেলগুলিতে হানা দেয়। SDPO জানান, “আমাদের কাছে খবর ছিল বুনিয়াদপুরে একটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চলছিল। আমরা পুলিশের বেশ কয়েকটি মহিলা টিম নিয়ে হোটেলগুলিতে তল্লাশি জ্বালাই।”
গ্রেফতার মোট ১২ জন
তদন্তকারীরা জানান, কোট মোড় এলাকার একটি হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে সাতজন মহিলা ও দুই পুরুষকে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজার, একজন স্টাফ এবং মালিক তরিকাল চৌধুরীকে (কিছু সূত্র অনুযায়ী গৌরীপাল চৌধুরী) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বংশীহারী থানার পুলিশ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে। শনিবার তাঁদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পুলিশ হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাইছে, কতদিন ধরে ওই হোটেলে মধুচক্র চালানো হচ্ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে মানবপাচারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই ধরনের ঘটনায় বুনিয়াদপুরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম বিশ্বাস পুলিশি অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “আরও অনেক আগে এ ধরনের কাজ করা উচিত ছিল পুলিশের।”
অন্যদিকে, শৈলেন বিশ্বাস নামে আরও এক বাসিন্দা সরাসরি প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের অফিসের ঠিক উল্টো দিকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া এই ধরনের ঘটনা নিত্যদিন ঘটতে পারে না। মহকুমা প্রশাসন কেন সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে না হোটেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে? আমরা চাইব প্রশাসন কঠোর হয়ে এর ব্যবস্থা করুক।”
উল্লেখ্য, পুলিশ এই চক্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীদের নিয়ে আসা এবং উত্তরবঙ্গ সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে মানবপাচার চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।