বিহারের রেকর্ড জয় বাংলা দখলের পথ প্রশস্ত করল, প্রধানমন্ত্রী মোদির হুঙ্কার, ‘বাংলা থেকে জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলব!’

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর রেকর্ড ভাঙা জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর দেওয়ার বার্তা দিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিহারের গেরুয়া ঝড় বিরোধীদের মহাজোটকে ধরাশায়ী করেছে এবং এই বিজয় বাংলার জয়ের পথকে প্রশস্ত করবে।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিজেপি এবার বিহার বিধানসভা ভোটে সবথেকে বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজেপি ১০১টি আসনে লড়ে এককভাবে ৯০টিরও বেশি আসনে জয় কার্যত নিশ্চিত করেছে এবং সামগ্রিকভাবে এনডিএ জোট দুশোরও বেশি আসনে এগিয়ে। এই বিপুল ফলাফলে উজ্জীবিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী বাংলা দখলের হুঙ্কার ছেড়েছেন।

বাংলা-সহ ৫ রাজ্যে জয়ের বার্তা

আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ-সহ অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই জয় কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরী, অসম এবং বাংলার বিজেপি নেতাকর্মীদেরও নতুন করে উৎসাহিত করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন:

“গঙ্গা মা-ও বিহার হয়ে বাংলাতেই যায়। বিহার বাংলার বিজয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। বাংলার মানুষদের আশ্বস্ত করছি, এবার বাংলা থেকেও জঙ্গলরাজকে উপড়ে ফেলবে বিজেপি।”

বিহারের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপি নেতারা বাংলা দখলের হুঙ্কার দিতে শুরু করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, বিহারের ফল বাংলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।

কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ কটাক্ষ

এদিন বিহারের ফল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবথেকে বেশি কটাক্ষ এবং আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসকে। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন:

“আমি এর আগেও কংগ্রেসের সহযোগীদের সাবধান করেছিলাম। যে কংগ্রেস পরজীবী। কংগ্রেস সহযোগীদের ভোট কেটে নিজে ফেরত আসার চেষ্টা করছে। আজ আরজেডি বিহারে চুপ করে গিয়েছে। দু’পক্ষের ঝগড়া এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। আমার তো আশঙ্কা, আগামী দিনে কংগ্রেসের আরও বড় একটা না বিভাজন হয়।”

তিনি কংগ্রেসের দুর্বলতা তুলে ধরে বলেন, লোকসভা নির্বাচনের পর ছয়টি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ১০০-র ঘর পেরোয়নি এবং এই নির্বাচনে বিজেপির যতজন বিধায়ক জয়ী হয়েছেন, কংগ্রেস ছয়টি বিধানসভা নির্বাচন মিলিয়েও ততগুলি আসন জেতেনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, আগামী ৫ বছরে বিহার আরও দ্রুত গতিতে এগোবে, রাজ্যে বিনিয়োগ আসবে, তরুণ প্রজন্মের কাজ হবে এবং পর্যটনের বিকাশ হবে।