শিশুদিবস স্পেশ্যাল, ‘মাটির কলস কেন অভিমান করে?’, বাবা-ছেলের সম্পর্কে কেন জন্ম নেয় অদ্ভুত নীরবতা ও অভিমানের চোরা স্রোত?

আজ অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর শিশুদিবস। কবি লিখেছিলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। এই কাব্যিক সত্যের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একটি সহজ, কিন্তু স্পর্শকাতর প্রশ্ন তুলে ধরেছেন লেখিকা সোহিনী সরকার। প্রশ্নটি হলো—আজ যে শিশু, কাল যখন সে পিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন কেন তার এবং তার বাবার স্বাভাবিক সম্পর্কে এক অদ্ভুত নীরবতা বা ‘অভিমানের চোরা স্রোত’ গ্রাস করে?
রায়ানের গল্প: অভিমানের চাদরে মোড়া সম্পর্ক
২৭ বছর বয়সী রায়ান সেন, কলকাতার একটি নামজাদা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র ছিলেন এবং বর্তমানে একটি বিখ্যাত আইটি কোম্পানিতে উচ্চ পদে আসীন। মধ্যবিত্ত বাবার হাত ধরে কোচিং ক্লাস থেকে খেলার মাঠে যাওয়া রায়ান আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এক বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও বাবা-ছেলের মাঝে কোনো ঝগড়া বা মন কষাকষি না থাকা সত্ত্বেও একটি অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করে। লেখিকার মতে, তাঁদের সম্পর্ক যেন এক ‘অভিমানের চাদরে মোড়া’।
সোহিনী সরকার এই সহজ, অথচ অজানা প্রশ্নটি নিয়ে দ্য ওয়ালের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, কন্যাসন্তানদের তুলনায় পুত্রসন্তানদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর কেন বাবার সঙ্গে এক অদ্ভুত ক্ল্যাশ তৈরি হয়? কেন সহজ-সরল সম্পর্ক আচমকাই খানিক অন্যরকম রূপ নেয়?
সোহিনীর পর্যবেক্ষণ: “আমার বেশিরভাগ ছেলেবন্ধুদের ক্ষেত্রে দেখেছি, তাদের বাবার সঙ্গে খুব একটা বনিবনা নেই, যতটা মায়ের সঙ্গে বনিবনা। বাবার সঙ্গে অদ্ভূত এক কী একটা ক্ল্যাশ করে।”
তিনি আরও বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বাবার সঙ্গে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর তৈরি হয় না। বাবাও নিজের মতো গুমরে থাকেন। ছেলেকে কিছু বললেও তা ছেলের পছন্দ না হলে সেই কথা ছেলে বাবাকে বলতে পারে না।
বাবা-মেয়ের সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ও সরলতার বিপরীতে গিয়ে লেখিকা বাবা-ছেলের সম্পর্কের জটিলতাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন: কেন এমন হয়? একদা পুত্র যখন পিতার আসনে বসেন, তখন ছোটবেলায় দেখা বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি সে নিজের অজান্তেই ধারণের চেষ্টা করে? এই সম্পর্কের সমীকরণ কেন বদলে যায়, সেই উত্তর আজও অজানা।