বিশেষ: ‘হীরক শিলা’ কিম্বারলাইট আসলে কী? জেনেনিন এই শিলা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিবরণ

হীরক বা হীরে, এই বহুমূল্য রত্নটির প্রধান এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো একপ্রকার বিরল আগ্নেয় শিলা, যার নাম কিম্বারলাইট। একে ‘হীরক শিলা’ বা ডায়মন্ড রক নামেও ডাকা হয়। কিম্বারলাইট হলো এক বিরল ধরনের পেরিডোটাইট ($Peridotite$) শিলার উদাহরণ।
কিম্বারলাইটের নামকরণ ও আবিষ্কার
এই শিলাটির নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ঐতিহাসিক আবিষ্কার।
-
নামকরণের উৎস: ১৮৬৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বারলি ($Kimberley$) শহরের কাছে ‘স্টার অব সাউথ আফ্রিকা’ নামের একটি বিশাল $83.5$ ক্যারেটের হীরক আবিষ্কৃত হয়। এই কিম্বারলি শহরের নাম অনুসারেই শিলাটির নামকরণ করা হয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয় এই বিরল শিলা?
কিম্বারলাইট শিলা তৈরি হয় পৃথিবীর গভীরে, যা একে আরও রহস্যময় করে তোলে।
-
উৎপত্তি: কিম্বারলাইট তৈরি হয় ভূ-অভ্যন্তরে গুরুমন্ডলে ($Mantle$) $150$ থেকে $450$ কিলোমিটার গভীরতায়।
-
ভূত্বকে আগমন: এই শিলা আগ্নেয় উদগিরণের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ভূত্বকে উঠে আসে।
-
উপস্থিতি: ভূত্বকে এটি উল্লম্ব গঠনের কিম্বারলাইট নল ($Kimberlite~Pipe$), আগ্নেয় ডাইক ($Dike$) ও সিলে ($Sill$) আকারে পাওয়া যায়।
কোথায় পাওয়া যায় কিম্বারলাইট?
এই মূল্যবান হীরক শিলা পৃথিবীর সব জায়গায় পাওয়া যায় না। এর কিছু প্রধান ভান্ডার হলো:
-
আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি ($Kalahari$), মধ্য আফ্রিকার লুন্ডা-কাসাই ($Lunda-Kasai$) অঞ্চল এবং তানজানিয়া।
-
আমেরিকা: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো-উইওমিং ($Colorado-Wyoming$)।
-
কানাডা: উত্তর কানাডা।