বিহারে হিংসা অতীত: লালু-নীতিশ জমানা পেরিয়ে নীরব ভোট! ভোট বাতিলের নোটিশ নেই, কীভাবে সম্ভব হল?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়ে গেল নির্বাচন কমিশন। ভোট গণনা চলছে, সরকার গঠনের ছবিটা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে—এই আবহে কমিশন জানাল, গত ৩০ বছরে এই প্রথমবার বিহারে ভোটগ্রহণের সময় কোনো বড় ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটেনি

বর্তমানে এনডিএ জোট এগিয়ে থাকায় তাদের ক্ষমতায় ফেরাটা একটা রেকর্ড হতে পারে। তবে এর চেয়েও বড় রেকর্ড গড়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ২৪৩টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হলেও একটিও আসনে পুনর্নির্বাচন (Re-Poll) করাতে হয়নি। হিংসামুক্ত এবং নির্বিঘ্নে ভোট করানোর ক্ষেত্রে একে বড় সাফল্য বলে মনে করছে কমিশন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ থেকে ২০০৫ সালের সময়টিকে বিজেপি ও জেডিইউ নেতারা ‘জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন। সেই সময় নির্বাচনী হিংসা, বুথ দখল এবং পুনর্নির্বাচন ছিল বিহার নির্বাচনের চেনা ছবি। এমনকি ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৫৬টি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের নির্বাচনে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষন পরিস্থিতি সামাল দিতে চারবার ভোট পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তবে এবার পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যা শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সহায়তা করেছে। যদিও নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সমস্ত বিতর্ক পেরিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দাবি, এই নির্বাচনটি ছিল বিহারের ইতিহাসে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন