ঘরে ১০০ কেজি রুপো রাখলে কি জেলে যেতে হবে? ভারতীয় আইনে সোনা-রুপো রাখার সীমা কী? জেনে নিন করের কঠোর নিয়ম!

ভারতে রুপো বা সোনা কেনা এবং ঘরে সঞ্চয় করে রাখা সম্পূর্ণ বৈধ, যদি তা বৈধ উপায়ে অর্থাৎ বৈধ আয় থেকে কেনা হয়। রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হলেও, কেউ যদি প্রতি বছর ৫ কেজি করে রুপো কিনে ২০ বছরে ১০০ কেজি রুপো জমাও করেন, তবে তা আইনের পরিপন্থী নয়—যদি আপনার কাছে ক্রয়ের সঠিক প্রমাণ থাকে।
তবে, একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতে একজন ব্যক্তির কাছে কতটা রুপো থাকতে পারে, তার উপর সরাসরি কোনও আইনি বিধিনিষেধ নেই।
কখন রুপো রাখা আইনত অপরাধ?
আইন অনুযায়ী, আপনি যত পরিমাণ রুপোই রাখুন না কেন (তা ১০০ কেজি হোক বা তার বেশি), আপনার কাছে তার ক্রয়ের বিল বা ট্যাক্স রসিদ থাকতে হবে।
যদি তদন্তে দেখা যায় যে, রুপোর ক্রয় আপনার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আপনি আয়ের উৎস প্রকাশ করতে ব্যর্থ, তবে এটি ‘অঘোষিত আয়’ বা কালো টাকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই ধরনের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ধারা ৬৯এ প্রযোজ্য হতে পারে, যার ফলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে এবং কর ও জরিমানা উভয়ই আরোপ করা হতে পারে।
মূলধন লাভ কর কখন দিতে হয়?
রুপোকে একটি মূলধন সম্পদ (Capital Asset) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কেনার সময় কোনো কর দিতে হয় না, কিন্তু বিক্রির সময় লাভের উপর কর ধার্য হয়।
স্বল্পমেয়াদী মূলধন লাভ: যদি রুপো কেনার ১২ মাসের মধ্যে বিক্রি করা হয়, তবে এটি স্বল্পমেয়াদী লাভ হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনার সাধারণ আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর ধার্য হবে।
দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভ: যদি রুপো ১২ মাস পরে বিক্রি করা হয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী লাভ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই লাভের উপর সাধারণত প্রায় ২০% হারে কর ধার্য হয় এবং এখানে সূচকীকরণ (Indexation) সুবিধার সাপেক্ষে কর গণনা করা হয়।
ক্রয়ের উৎস প্রমাণ করা সবচেয়ে জরুরি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি ক্রয়ের বিল, ইনভয়েস বা ব্যাঙ্ক লেনদেনের রেকর্ড রাখা। বড় অঙ্কের কেনাকাটা নগদে (Cash) করলে এবং তার উৎস প্রকাশ করতে ব্যর্থ হলে, আয়কর বিভাগ প্রমাণ চাইতে পারে। অতএব, যেকোনো বড় বিনিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।