আকাশ থেকে খসে পড়ল রাশিয়ার ‘ভরসা’! Su-30SM ক্র্যাশে দুই পাইলটের করুণ পরিণতি, কেন কাজ করল না ইজেকশন সিস্টেম?

রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চল থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনার খবর এসেছে। একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে থাকা রাশিয়ান বায়ুসেনার অত্যাধুনিক Su-30SM যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর জঙ্গলে ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা দুই পাইলটেরই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা রাশিয়ার সামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে।
জঙ্গলে অভিযান ও তদন্তের নির্দেশ: কারেলিয়ার গভর্নর আর্তুর পারফেনচিকভ টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন, প্রিয়নেজস্কি জেলার জঙ্গল এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ার পরই জরুরি পরিষেবা পাঠানো হয়। তিনি জানান, জনবসতি থেকে দূরে দুর্ঘটনা ঘটায় কোনো সাধারণ নাগরিক হতাহত হননি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি জঙ্গলে আছড়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য, বিমানটিতে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ ছিল না।
পাইলটরা কেন ইজেক্ট করতে পারলেন না? দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—কেন দুই পাইলটই নিজেদের বের করতে পারলেন না? Su-30SM হলো দুটি আসনযুক্ত, দুটি ইঞ্জিনসহ একটি আধুনিক মাল্টি-রোল ফাইটার জেট। এতে উন্নত ইজেকশন সিট সিস্টেম রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটের জীবন বাঁচানোর জন্য তৈরি। কিন্তু এই ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হয় ইজেকশন সিস্টেম ব্যর্থ হয়েছিল অথবা বিমানটি এত দ্রুত নীচে নেমে আসছিল যে পাইলটরা প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় পাননি।
যুদ্ধবিমানের ওপর বাড়তি চাপ ও ত্রুটি? সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অনেক বিমানের ওপর চাপ বেড়েছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই Su-30SM বিমানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বাড়তে পারে। ঘটনাটির আসল কারণ উদ্ঘাটনের জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই রহস্য জিইয়ে থাকবে।