লালকেল্লা বিস্ফোরণ: ফরিদাবাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছক কষেছিল জইশ জঙ্গিরা, মূল চক্রে চার চিকিৎসক

দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের (Car Blast) তদন্তে এবার নয়া মোড়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রাজধানী থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) থেকেই এই হামলার মূল নকশা তৈরি হয়েছিল। এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সঙ্গে যুক্ত চারজন চিকিৎসক।
গত সোমবার লালকেল্লার কাছে একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ড. উমর মহম্মদ, যিনি নিজেও এই ঘটনায় নিহত হন। তাঁর তিন সহযোগী — ডা. মুজাম্মিল শাকিল, ডা. আদিল রাঠার এবং ডা. শহীদ সাঈদ — বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর ঘরে চলত গোপন বৈঠক পুলিশের দাবি, ৭০ একর জুড়ে বিস্তৃত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর ভবনের ১৩ নম্বর ঘরটিই ছিল জঙ্গি কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। এই ঘরটি ছিল ডা. মুজাম্মিলের, যেখানে বসে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে অনুমান।
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি থেকে রাসায়নিক চুরি করত। ল্যাবটি মুজাম্মিলের ঘরের কাছেই অবস্থিত। ডা. উমর এবং ডা. শাহিন এই রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন এবং তা ফরিদাবাদের ধৌজ ও টাগা গ্রামে ভাড়া নেওয়া বাড়িতে মজুত রাখতেন। পুলিশের অভিযানে ইতিমধ্যেই কক্ষটি সিল করা হয়েছে এবং সেখান থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পেন ড্রাইভ ও রাসায়নিকের নমুনা উদ্ধার হয়েছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাব থেকে আনা রাসায়নিকের সঙ্গে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অক্সিডাইজার মিশিয়ে ‘এএনএফও’ (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জ্বালানি তেল) নামের বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল, যা লালকেল্লা বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে। ফরিদাবাদে তল্লাশির সময় প্রায় ২,০০০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটও রয়েছে।
৬ ডিসেম্বর হামলার লক্ষ্য, ৩০ লক্ষ টাকার তহবিল তদন্তে আরও জানা যায়, চার চিকিৎসক মিলে এই সন্ত্রাসী হামলার জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন, ৬ ডিসেম্বর, দিল্লি জুড়ে একাধিক ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো। এই অর্থে গুরগাঁও, নুহ ও আশপাশের বাজার থেকে ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার (যা বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) কেনা হয়েছিল। পুরো অর্থের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডা. উমরকে।
এদিকে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। উপাচার্য ডা. ভূপিন্দর কৌর আনন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের দু’জন অধ্যাপককে আটক করার খবর পেয়েছি। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনও যোগ নেই।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়ানো নিয়ে সতর্ক করেন।