নদীর ধারে ‘দিঘা-পুরীর’ স্বাদ! রণডিহা ড্যামে গরম তেলে ভাজা টাটকা রকমারি মাছ! ঘুরে আসুন সামনের ছুটিতেই

দিঘার সমুদ্র সৈকতে যেমন গরম গরম সামুদ্রিক মাছ ভাজা পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই স্বাদ এখন পাওয়া যাচ্ছে দামোদর নদের ওপর গড়ে ওঠা রণডিহা ড্যামের কাছেও। তবে এখানে মেলে সামুদ্রিক নয়, নদীর টাটকা তাজা নানা প্রজাতির মাছ ভাজা।

সনাতনবাবু নামে এক জনপ্রিয় মাছ ব্যবসায়ী ড্যামের পাশেই তাঁর পৈতৃক মাছের আড়তে এই বিশেষ ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। তাঁর আড়তটি আগে পানাগড় ও দুর্গাপুরের বাজারে দেশি মাছ সরবরাহের কেন্দ্র ছিল।

পর্যটকদের আবদারে নতুন ব্যবসা:

আগে দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা টাটকা নদীর মাছ কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু পরিবহণের অসুবিধার কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকলেও মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতেন। মাছপ্রেমী সেই পর্যটকদের আবদারেই কিছু বছর আগে সনাতনবাবু তাঁর আড়তে মাছ ভাজার ব্যবসা শুরু করেন। এই অভিনব পরিষেবা স্থানীয়দের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

রণডিহা ড্যামের জলাধার ও দামোদর নদে বোয়াল, ট্যাংরা, গলদা চিংড়ি, পাবদা, কাজলী, চিরে বাটা, বাচা-সহ নানা সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায়।

শালপাতায় পরিবেশন, উপাদানে বাড়ে স্বাদ:

সনাতনবাবুর দাবি, আগে তাঁর বাপ-দাদুরা কেবল মাছের আড়তদার ছিলেন। খুচরো বাজারে মাছ চালান করাই ছিল তাঁদের কাজ। কিন্তু এখন তাঁর ছেলে-সহ সকলে মিলে পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত।

গ্রাহকেরা প্রথমে নিজের পছন্দ মতো টাটকা মাছ কিনে নেন। সনাতনবাবুর এক কর্মী সেই মাছ ধুয়ে কেটে পরিষ্কার করে দেন। এরপর সনাতনবাবু গরম তেলে সেই মাছ মচমচে করে ভেজে দেন। এই ফ্রাই পরিবেশন করা হয় শালপাতায়, সঙ্গে থাকে কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, কাসুন্দি, টমেটো শস এবং লেবুর রস, যা মাছ প্রেমীদের কাছে এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলে। খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে মাছ ভেজে দেওয়া হয় এখানে।

দুর্গাপুর মহকুমার বুদবুদ থানার অন্তর্গত রণডিহা ড্যাম এখন সারাবছরই বিভিন্ন জেলার পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় ‘ফিশ ফ্রাই’ ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে।