‘সাধারণ বিধায়কের মতোই আসন পাবেন’, তিন বছর পর মুক্তি, বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিন বছরেরও বেশি সময় কারাবাসের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরই তিনি আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা—দল থেকে নিলম্বিত থাকা সত্ত্বেও তিনি কি বিধানসভায় অংশ নিতে পারবেন?
তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করলেও বিধানসভা থেকে তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিধানসভায় ফেরা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান
বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় একজন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ বিধায়ক। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছিল, কিন্তু বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়নি। তিনি যদি অধিবেশনে যোগ দিতে চান, তা তাঁর অধিকার। আদালতের বিচার আদালত করবে, কিন্তু বিধানসভা নিজের নিয়মে চলে।”
অধ্যক্ষ নিশ্চিত করেন যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার নিয়ম মেনে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি তাঁকে একটি উপযুক্ত আসন দেব। তিনি এখন মন্ত্রী নন, তাই নিজের ঘর পাবেন না। সাধারণ বিধায়কদের মতোই বসবেন এবং তাঁদের মতো সব সুবিধাই পাবেন। শীতকালীন অধিবেশনের আগে তাঁর নতুন বসার আসন নির্ধারণ করা হবে।” সুযোগ পেলে নির্দল বিধায়ক হিসেবে তিনি অধিবেশনে বক্তব্যও রাখতে পারবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য
বিধানসভায় ফেরার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিরোধী দলনেতা ছিলাম। ৩০ আসন নিয়ে বিধানসভায় লড়াই করেছি। আমি হাত তোলবার জন্য বিধায়ক হইনি, লড়াই করে হয়েছি। এখনও সেই আগুন নিভে যায়নি।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাঁর সাফ কথা, “দরকারে বিধানসভার বারান্দায় বসব, তবু যাব। আমি নির্বাচিত বিধায়ক, বিধানসভায় যাওয়া আমার কর্তব্য।”
অধ্যক্ষের মন্তব্যে স্পষ্ট—পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিধায়ক পদ বহাল রয়েছে এবং আইনি দিক থেকে তিনি অন্য বিধায়কদের মতোই অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন। জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরা পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি বাড়ি ফিরেছি, কিন্তু লড়াই থামাইনি।” তাঁর এই প্রত্যাবর্তন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।