চলন্ত গাড়িতে কেন বিস্ফোরণ? ‘পূর্ব-পরিকল্পিত’ নয়, তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে নয়া জল্পনা!

দিল্লির লাল কেল্লার মেট্রো স্টেশনের সামনে হওয়া সাম্প্রতিক বিস্ফোরণকাণ্ডের (Delhi Red Fort Blast) তদন্তে ক্রমেই নতুন তথ্য হাতে আসছে গোয়েন্দাদের। প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্যগুলি উঠে এসেছে, তাতে এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল কিনা, সেই বিষয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

গোয়েন্দাদের হাতে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— বিস্ফোরণস্থল থেকে কোনও স্প্লিন্টার বা ধারালো পেরেকের (Sharp Nail) চিহ্ন মেলেনি। এতে তদন্তকারীদের ধারণা, অন্য জঙ্গি মডিউলের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় উমর নবি দ্রুত পালাতে গিয়েই তাড়াহুড়োয় এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ, এটি একটি অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা হতে পারে।

চলন্ত গাড়িতে বিস্ফোরণ— কেন সন্দেহ?

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের সময় উমর নবি যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি চলন্ত অবস্থায়ই বিস্ফোরিত হয়। সাধারণত, কোনও সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে, জঙ্গিরা গাড়ি থামিয়ে বা নির্দিষ্ট স্থানে পার্ক করে নিরাপদ দূরত্ব থেকে ডিটোনেশন ঘটায়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে গাড়িটি গতিশীল ছিল। এই ফুটেজই গোয়েন্দাদের ধারণাকে আরও শক্ত করেছে যে, বিস্ফোরণটি আকস্মিকভাবেই ঘটেছে।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট রহস্য

তদন্তে বিস্ফোরণস্থল (Delhi Red Fort Blast) থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কিছু চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কৌশলগত বিশেষজ্ঞ (Strategic Expert) শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় TV9 বাংলার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিজে থেকে বিস্ফোরক নয়। একে কার্যকর বিস্ফোরকে পরিণত করতে ‘জেলি ক্রিস্টালাইজেশন’ (Jelly Crystallization) নামক একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, “আমার ধারণা, ঘটনাস্থলে যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিল না। হয়তো পালানোর সময় গাড়ির ভেতরে থাকা কোনও অন্য রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে হঠাৎই প্রতিক্রিয়া ঘটে যায়। সেই রাসায়নিক সংস্পর্শের কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।”

তদন্তকারীদের বক্তব্য, এখন পর্যন্ত এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি যা থেকে এটিকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত বিস্ফোরণ বলা যায়। বরং ঘটনাস্থলের বিশ্লেষণ, রাসায়নিকের প্রকৃতি এবং সিসিটিভি ফুটেজ — সবকিছু মিলিয়ে এটি প্রাথমিকভাবে একটি ‘অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণ’ বলেই মনে হচ্ছে।

যদিও চূড়ান্ত নিশ্চয়তায় পৌঁছনোর জন্য গোয়েন্দারা এখন বিস্ফোরণস্থলের রাসায়নিক নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি উমর নবির যোগাযোগ সূত্র, ফোন রেকর্ড এবং গত কয়েক সপ্তাহের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই বিস্ফোরণটি সত্যিই পরিকল্পনাবিহীন হয়, তবে তা এই জঙ্গি মডিউলের প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি এবং চরম চাপের মধ্যে কাজ করার ঝুঁকিকেই তুলে ধরছে।