মীরাটে জন্ম, দিল্লিতে শেষ! লালকেল্লা হামলায় নিহত মহসিনের মরদেহ নিয়ে কেন ঝামেলা? কারণ জানালেন স্ত্রী সুলতানা

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সোমবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Blast) নিহত হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মীরাটের বাসিন্দা মহসিন। পেশায় ই-রিকশা চালক মহসিন, দু’বছর আগেই স্ত্রী সুলতানা ও দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের সন্ধানে রাজধানীতে এসেছিলেন। কিন্তু সেই শহরই কেড়ে নিল তাঁর জীবন। এর মধ্যে, মহসিনের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য ঘিরে শুরু হয়েছে পারিবারিক বিবাদ।

বিবাদের কেন্দ্রে শেষকৃত্যের স্থান

মঙ্গলবার মহসিনের মরদেহ যখন মীরাটে তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়, তখনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। শোকের আবহে শুরু হয় তীব্র বিবাদ—কোথায় হবে মহসিনের শেষকৃত্য?

পরিবারের দাবি: মহসিনের মা ও ভাই-বোনেরা অনুরোধ জানান যে, ছেলের জন্মস্থান মীরাটেই যেন তাঁর মরদেহ কবর দেওয়া হোক।

স্ত্রীর দাবি: স্ত্রী সুলতানা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর স্বামীর কবর দিল্লিতেই হবে, কারণ সেখানেই তিনি থাকতেন এবং রোজগার করতেন।

সুলতানার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রতিবেশী এবং মা-ভাই-বোনেরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সুলতানা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত, পরিবারের তীব্র অমতের মধ্যেই সুলতানা তাঁর স্বামীর মরদেহ নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।

বিস্ফোরণের ঘটনা ও উমর প্রসঙ্গ

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যে ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরকে ঠাসা একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় মহসিন-সহ এখনও পর্যন্ত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

তদন্তে উঠে এসেছে যে গাড়িটি ছিল উমর নামের এক চিকিৎসকের। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ঘটনাটি কোনো আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং জঙ্গি সন্দেহভাজন আতঙ্কিত হয়ে ভুলবশত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। সেদিন সকালেই জঙ্গি সন্দেহে তিনজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপরই আতঙ্কে উমর ঘাবড়ে গিয়ে ভুলবশত বিস্ফোরণ ঘটান, যাতে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।