শপথ নিলেন ভারতের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর! ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কেন এই গুরুদায়িত্ব?

ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন সার্জিও গোর। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল।

দায়িত্ব পালনে উন্মুখ গোর

শপথ গ্রহণের পর সার্জিও গোর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব পালনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখবেন না। কয়েক মাস আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে এই পদের জন্য বেছে নিয়েছিলেন এবং সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন—এই বড় দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাঁর ‘কাছের বন্ধুকে’ নির্বাচন করছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে গোর লেখেন, “ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করতে মুখিয়ে আছি। আমাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়ায় আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে অনেক ধন্যবাদ। এত বড় একটা সুযোগ দিয়েছেন বলে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। নতুন দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে যা যা করা দরকার, সেটাই করব।”

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুদায়িত্ব

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই ভারতে আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রদূত ছিল না। এর আগে এই পদে ছিলেন এরিক গার্সেট্টি, যিনি জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে যান। এরপর যখন ভারতের উপর আমেরিকা বিপুল পরিমাণ শুল্কের বোঝা চাপিয়ে সম্পর্ককে উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই আবহে ট্রাম্প সার্জিও গোরকে বেছে নিলেন।

ভূ-কৌশলগত দিক থেকেও ভারতের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা এখন আমেরিকার জন্য বিরাট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। এই পরিস্থিতিতে, ওই সমস্ত দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক রক্ষার অতিরিক্ত ভার আপাতত সার্জিও গোরকেই সামলাতে হবে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে এই অঞ্চলে কাজ করবেন। শুল্ক বৃদ্ধির পর ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণে যে পরিবর্তন এসেছে, সেদিক থেকেও গোরের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

এদিকে, মার্কিন মুলুকে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কাতরা গোরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, গোর নিজের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে সক্ষম হবেন।