থাইল্যান্ডে চাকরির ফাঁদ, মায়ানমারে ‘সাইবার দাসত্ব’! ২৭০ ভারতীয়কে উদ্ধার, ফাঁস হলো ‘কে কে পার্কের’ ভয়ঙ্কর চক্র!

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমারে সাইবার দাসত্বের জালে আটকে পড়া ২৭০ জন ভারতীয় নাগরিককে সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিহারের আটজন যুবককে অর্থনৈতিক অপরাধ ইউনিট (ইওইউ) দিল্লি এবং নয়ডায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠিয়েছে।
বিহারের যে আটজন যুবক ফিরে এসেছেন, তাঁরা হলেন গয়ার সাগর কুমার, গোপালগঞ্জের প্রশান্ত কুমার প্যাটেল, মধুবানীর মোহাম্মদ রাজিক ও আসিফ, সীতামারহির আরিফ আলী, মোহাম্মদ ফয়জান আলম, আদিত্য কুমার এবং আরারিয়ার আদিত্য কুমার ঝা। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভারতীয় এজেন্টরা তাঁদের বিদেশে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে লোভনীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেছিল। এই পুরো চক্রে ভারতীয় এজেন্টদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হতো ভারতীয় যুবকদের
উদ্ধার হওয়া যুবকরা প্রকাশ করেছেন যে মায়ানমারের মায়াওয়াদ্দির ‘কে কে পার্ক’ (KK Park) নামক এলাকায় একটি বৃহৎ আকারের সাইবার জালিয়াতি চক্র সক্রিয়। যুবকদের প্রথমে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখান থেকে গ্যাং সদস্যরা তাঁদের থাইল্যান্ড-মায়ানমার সীমান্তের একটি নদীর কাছে নিয়ে যেত। নদী পার করার পর, তাঁদের জোর করে কে কে পার্কে নিয়ে গিয়ে সাইবার অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য করা হতো।
তাঁদের প্রধান দায়িত্ব ছিল আমেরিকান এবং কানাডিয়ান নাগরিকদের কাছে প্রতারণামূলক ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রচার করে ফাঁদে ফেলা। এজন্য তাঁদের মহিলাদের ছবি ব্যবহার করে জাল ফেসবুক আইডি তৈরি করতে বলা হতো। এই কাজে সফল হলে যুবকরা প্রতি সফল জালিয়াতির জন্য প্রায় তিন শতাংশ কমিশন পেতেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ থাই বাত বেতন পেতেন।
অমানবিক নির্যাতন ও জরিমানার হুমকি
তদন্তে আরও জানা যায়, যে কর্মীরা এই অবৈধ কাজ করতে অস্বীকার করতেন বা নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতেন, তাঁদের ওপর নেমে আসত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। জানা গিয়েছে, কে কে পার্ক কমপ্লেক্সে নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার নাগরিক সহ প্রায় ২০০০ জন সাইবার দাসত্বের শিকার হয়েছিলেন। গ্যাং নেতারা কর্মীদের কাজ করতে বাধ্য করত এবং প্রতিরোধ করলে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার হুমকি দিত।
সম্প্রতি মায়ানমারের সেনাবাহিনী কে কে পার্কে অভিযান চালিয়ে বহু দেশের নাগরিকদের মুক্ত করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে, ২৭০ জন ভারতীয়কে বিশেষ বিমানে করে নয়াদিল্লি পাঠানো হয়। বিহার পুলিশের একটি দল পাটনায় এনে এই আটজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর, তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও তদন্তের স্বার্থে ১৩ নভেম্বর তাঁদের নিজ নিজ জেলার সাইবার থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত এজেন্টদের ধরতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।