বিহার বিধানসভা নির্বাচন! দ্বিতীয় দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৭.৬২% ভোট, নীতীশ মন্ত্রিসভার ১২ মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত দফায় ভোটারদের অভূতপূর্ব উৎসাহ চোখে পড়ছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর, ২০২৫) সকাল ৭টা থেকে ২২টি জেলার ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রায় ৩.৭ কোটি ভোটার এই দফায় তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৭.৬২% ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা প্রথম দফার (৪২.৪৩%) তুলনায় যথেষ্ট বেশি।

তীব্র গরম উপেক্ষা করেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। কিষাণগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১% এর বেশি ভোট পড়েছে, যা রেকর্ড গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে মধুবনীতে ভোটিং হার সবচেয়ে কম, ৪২%। পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, সীতামঢ়ী, সুপৌল, আরিয়া, কিষাণগঞ্জ সহ সীমান্তবর্তী সীমাঞ্চল অঞ্চলে ভোটিং চলছে জমজমাট। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মহিলারা বলছেন, “এবার পরিবর্তন আসবে।”

মন্ত্রী ও জোটের ভবিষ্যৎ

এই চূড়ান্ত দফায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সরকারের ১২ জন মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। জেডিইউ-বিজেপির এনডিএ জোট শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে তাদের স্লোগান অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্ডিয়া জোটকে ‘৬৫ ভোল্টের ঝটকা’ দেওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব যুবক-যুবতীদের চাকরি এবং মাইগ্রেশন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নীতীশের ২০ বছরের রাজত্ব ভাঙার ডাক দিয়েছেন।

বিতর্ক ও কিংমেকার

নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার ভোটার লিস্টে কারচুপি এবং সংখ্যালঘু ও মহিলাদের ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জেহানাবাদের ঘোসী বুথে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া এবং পশ্চিম চম্পারণে পুলিশের ইউনিফর্ম ছাড়া ডিউটি করার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নজরে এসেছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪৫,৩৯৯টি বুথে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিশেষ করে নেপাল সীমান্তবর্তী সীমাঞ্চল অঞ্চলে মুসলিম এবং দলিত ভোটাররা নির্বাচনের ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম, উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএম এবং মুকেশ সাহনির দল এই অঞ্চলের ভোটের সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সব দাবি-প্রতিদাবির মাঝে ভোটাররা বলছেন, “আমরা দেখব কে সত্যি পরিবর্তন আনে।”