লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ! ‘একমাত্র রোজগেরে’ বাস কন্ডাক্টর অশোক! শোকে ভাসছে ৮ সদস্যের পরিবার

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত ১৩ জনের মধ্যে উঠে আসছে সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক জীবন কাহিনি। উত্তরপ্রদেশের আমরোহার সোমবতী গ্রামের বাসিন্দা অশোক কুমার ছিলেন এই নিহতদের অন্যতম। তিনি দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (DTC) বাস কন্ডাক্টর ছিলেন।

অশোকের পরিবারে স্ত্রী, চার সন্তান এবং গ্রামে থাকা মা ও দাদাকে নিয়ে মোট আটজন সদস্য। একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে অশোককেই দিনের বেলা কন্ডাক্টরি এবং রাতে বাড়তি আয়ের জন্য নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব সামলাতে হতো। ঘটনার সময় তিনি চাঁদনি চকে লোকেশ কুমার গুপ্তা নামে একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

অন্যান্য নিহতদের বিবরণ

বিস্ফোরণে নিহত আরেকজন হলেন শ্রীনীবাসপুরীর বাসিন্দা, ৩৪ বছর বয়সী অমর কাটারিয়া, যিনি ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। দিনের কাজ শেষে লালকেল্লার সামনে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি এই হামলার শিকার হন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার ২২ বছর বয়সী নওমান জিনিসপত্র কিনতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন; তিনিও নিহত হন, এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আত্মীয় অমন গুরুতর আহত। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিহারের ক্যাব চালক পঙ্কজ সাইনি, যিনি যাত্রী নামিয়ে ফিরছিলেন।

নাশকতা নিশ্চিত, জইশ জঙ্গির যোগসূত্র

১০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো স্প্লিন্টারের আঘাতের প্রমাণ না পাওয়ায় প্রাথমিক সন্দেহ জাগলেও, একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা এবং আশেপাশের একাধিক গাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টি তদন্তে নাশকতার ইঙ্গিত দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে প্রায় ৩ ঘণ্টা গাড়িটি লালকেল্লার পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে ছিল।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, এই হামলা চালিয়েছে ড. উমর মহম্মদ নামে এক চিকিৎসক, যিনি জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) জঙ্গি। ফরিদাবাদে ২৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সহ গ্রেফতার হওয়া ড. মুজাম্মিলের সঙ্গেও এই উমরের যোগ ছিল। উমরের এই আত্মঘাতী হামলা প্রমাণ করে যে লালকেল্লার বিস্ফোরণ একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ছিল।