মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে শিক্ষকের জীবন কাড়ল পুলিশ অফিসার! নিমুচে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাসপেন্ড অভিযুক্ত এএসআই

মধ্যপ্রদেশের নিমুচে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো এক শিক্ষকের। অভিযোগ, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) মনোজ যাদব মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে নিজের গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং সেই গাড়ির ধাক্কাতেই ঘটে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা।

নিমুচ-জাওয়াদ রোডে ভরভাদিয়া গ্রামের কাছে দশরথ (৪২) নামে ওই শিক্ষক তাঁর স্ত্রী ললিতা বাই (৩৫) এবং দুই ছোট সন্তান হর্ষিত (১০) ও জয়া (৬)-কে নিয়ে মোটরবাইকে সবজি বাজার থেকে ফিরছিলেন। ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে আসা পুলিশ অফিসারের গাড়ি পেছন থেকে তাঁদের ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই শিক্ষক দশরথের মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

মদের গন্ধ ও জনরোষ
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই মনোজ যাদব এতটাই মদ্যপ ছিলেন যে, তিনি গাড়ি থেকে নামার পর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “ওঁর গোটা শরীর থেকে মদের গন্ধ বেরচ্ছিল। আর চারপাশে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতরা পড়েছিলেন।” পরে পুলিশ ওই অফিসারের গাড়ি থেকে মদের বোতল ও খালি গ্লাস উদ্ধার করে। এই ঘটনায় আরও একজন পথচারী, ভোপাল (৪৪) আহত হন।

আহতদের দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দশরথকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এএসআই সাসপেন্ড
এই ঘটনার পরই উত্তেজিত জনতা দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তা অবরোধ করে অভিযুক্ত আধিকারিকের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তীব্র জনরোষের মুখে নিমুচের পুলিশ সুপার অভিযুক্ত এএসআই মনোজ যাদবকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেন এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ ঘটানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া আচরণের ঘটনা বেড়ে চলার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাজ্য জুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।