“বাঙালি অস্মিতার অপমান!” বঙ্কিম-মূর্তি যাত্রা রুখতে রাস্তা খুঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ শুভেন্দুর, পাল্টা দিলেন তৃণমূলের কুণাল-জয়প্রকাশ

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এই বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষ মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।

নয়াদিল্লির এই কর্মসূচির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ওইদিনই বঙ্গে ‘বাঙালি অস্মিতা’কে সামনে রেখে কর্মসূচি নেয় বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

পথের বাধা ও শুভেন্দুর অভিযোগ
বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ শুরু হওয়া এই মিছিল চলাকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন কংগ্রেস সমর্থক তাঁকে পতাকা দেখালেও, সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও শুভেন্দু তাঁর গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান।

কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করতে যাওয়ার পথে শুরু হয় আসল বিতর্ক। শুভেন্দুর অভিযোগ, যে রাস্তা দিয়ে তাঁর যাওয়ার কথা, সেই রাস্তা ইচ্ছাকৃতভাবে খুঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি ছিল অত্যন্ত বেহাল ও এবড়ো খেবড়ো। ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“যেই শুনেছে আমি আসব, ইচ্ছা করে কালকে রাস্তা খুঁড়ে দিয়েছে। বাঙালি দেখুন সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি কতটা অপমান। ফাঁকা বুদ্ধিজীবীদের দেখান এই রাস্তা।”

শুধু রাস্তার বেহাল দশা নয়, বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগারের গেটও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাল্টা দিলেন কুণাল ঘোষ ও জয়প্রকাশ মজুমদার
শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ পাল্টা নিশানা করে বলেন:

“যাঁরা বন্দে মাতরম স্লোগানটার মর্ম বোঝেন না। যাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও ভূমিকা নেই। যাঁরা বাংলাকে অপমান করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করেন, যাঁরা জনগণমনকে অপমান করেন, তাঁরা আজকে নাটক করছেন। তাঁদের বন্দে মাতরম বলার কোনও নৈতিক অধিকারই নেই।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার রাস্তার বেহাল দশার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, খুঁড়ে রাখার কারণ উন্নয়নের কাজ:

“উন্নয়নের জন্য রাস্তা খুঁড়তে হয়। কবে শুভেন্দু অধিকারী আসবেন, উন্নয়ন বন্ধ থাকবে, রাস্তার কাজ বন্ধ থাকবে, এরকম অন্যায় আবদার তো কেউ শোনেননি।”

সবমিলিয়ে, জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তির এই শুভ অনুষ্ঠানও বাংলাতে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক বাদানুবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো।