বিডিও কি গা-ঢাকা দিতে সীমান্তের দিকে? স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে ৩ জনের নাম চিহ্নিত, ফ্ল্যাটে আর কারা ছিল?

স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত, রাজগঞ্জের বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রভাবশালী সরকারি কর্তার এই ‘রহস্যময়’ অন্তর্ধান তদন্তকারী দল, অর্থাৎ বিধাননগর দক্ষিণ থানা ও গোয়েন্দা শাখার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বিডিও-কে খুঁজে বের করতে তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে।
সিসিটিভি-তে ধরা পড়েছে রহস্য
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, দত্তাবাদ এবং আশপাশের সমস্ত এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। সেই ফুটেজে প্রশান্ত বর্মনের গাড়ির গতিবিধি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ঘটনার দিন থেকে বিডিও-র গাড়ি ঠিক কোন কোন পথে যাতায়াত করেছিল, পুলিশ এখন সেই ফুটেজ ধরে তা মেলাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকেই বিডিও-র শেষ অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফ্ল্যাটের ‘চোর’
গোয়েন্দারা দত্তাবাদ এলাকায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে উঠে এসেছেন অশোক কর, যিনি বিডিও-র ফ্ল্যাটে কর্মরত অভিযুক্ত চোর ছিলেন। পুলিশ জানতে চায়, ঘটনার দিন বিডিও-র ফ্ল্যাটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সোনা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের সূত্রপাত কিনা। অশোক করকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুনের দিন বিডিও ছাড়াও আরও কয়েকজন ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিল। তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তিনজনকে শনাক্ত করা গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিডিও প্রশান্ত বর্মনের সমস্ত সম্ভাব্য গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তিনি যাতে রাজ্য ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে, তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে এলেও, প্রভাবশালী অভিযুক্ত বিডিও-র নাগাল না পাওয়ায় এই হাই-প্রোফাইল মামলার জট কাটছে না।