“পাকিস্তানের জন্য শান্তি আসবে না”-পাক-আফগান সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে যা বলছে তালিবান

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নিরসনে ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই শেষ হয়েছে। আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে এই আলোচনা ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তানের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসহযোগী মনোভাব’-কে দায়ী করেছেন।
মুজাহিদ জানান, ৬ এবং ৭ নভেম্বর দুই দিন ধরে আফগান প্রতিনিধিদল পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। আফগান পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেও, পাকিস্তানের অসহযোগিতার ফলেই ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব হয়নি।
🗣️ তালিবানের গুরুতর অভিযোগ
তালিবান মুখপাত্রের মতে, পাকিস্তান আলোচনার সময় সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান সরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং নিজেরা কোনো স্তরে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবৃতিতে বলেন:
“আফগান প্রতিনিধিদল এবং মধ্যস্থতাকারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আলোচনা ব্যর্থতার দিকে নিয়ে গিয়েছে। ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান কাউকে অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে তাদের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না এবং দেশটিকে রক্ষা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
⚔️ সীমান্ত উত্তেজনার মূল কারণ
বিশ্লেষকরা বলছেন যে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী হামলা বৃদ্ধির মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা আলোচনাকে আরও কঠিন করে তোলে।
- পাকিস্তানের দাবি: ইসলামাবাদ ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে যে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদীরা আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করছে এবং হামলা চালাচ্ছে।
- কাবুলের অস্বীকার: এই অভিযোগ কাবুল দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
গত কয়েক মাসে পাকিস্তানে টিটিপি-এর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তান এবং আফগান তালিবানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।