‘গুলিস্তান কলোনীতে বহিরাগতদের আনাগোনা’! বেআইনি বাংলাদেশিদের আস্তানা নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রীকে বিঁধলেন শুভেন্দু

এসআইআর (Special Intensive Revision) অর্থাৎ ভোটার তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল তৃণমূল এবং বিজেপি এখন কার্যত ময়দানে নেমে পড়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে চলছে তীব্র দোষারোপের পালা। এরই মধ্যে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় রাজ্যের মন্ত্রী এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী জাভেদ খান ও তাঁর ছেলে ফৈয়াজ খান।
শনিবার গুলসান কলোনীতে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুতর অভিযোগগুলি তোলেন। নন্দীগ্রামের বিধায়ক দাবি করেন, মন্ত্রী জাভেদ খান ও তাঁর ছেলে ফৈয়াজ খানের কাছে নাকি বিপুল পরিমাণে এপিক ফর্ম (EPIC Form) রয়েছে।
‘কেমিক্যাল দিয়ে কালি তুলে ডবল ভোট’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ আরও মারাত্মক। তাঁর দাবি, বাবা ও ছেলের (জাভেদ ও ফৈয়াজ) ‘ঘনিষ্ঠ’ লোকজন নাকি একবার রাজাবাজারে ভোট দেন এবং তারপর কেমিক্যাল ব্যবহার করে আঙুলের কালি তুলে বেলার দিকে কসবা বা চেতলাতেও ভোট দিতে যান।
শুভেন্দু বলেন, “জাভেদ খান ও ওঁর ছেলের কাছে প্রচুর এপিক ফর্ম রয়েছে। যাঁদের নাম মোমিনপুর-একবালপুরে আছে, আবার এদের নাম রাজাবাজারেও আছে। তাঁরা সকালে রাজাবাজারে ভোট মারে। তারপর কেমিক্যাল দিয়ে কালি তোলে বেলার দিকে গিয়ে কসবাতে ভোট মারে। একইভাবে চেতলাতেও তাই হয়।”
প্রসঙ্গত, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পরই দেখা যায় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পালাতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ছেন একের পর এক অবৈধ বাংলাদেশি। শুধু উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই প্রায় ৯৬ জন ধরা পড়েছিলেন। সেই সময় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, নিউটাউন ও গুলিস্তান কলোনী থেকেও বহু লোক ভয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, কারণ সেখানে বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে বসবাস করে।
আজ সেই গুলসান কলোনীর প্রসঙ্গ টেনেই রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তবে এই বিষয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।