ডার্ক ওয়েবের ভয়ঙ্কর থাবা! চুরি হওয়া ডেটা দিয়ে চলছে সাইবার প্রতারণা, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

ইন্টারনেট দুনিয়ার এক অন্ধকার অংশ, ‘ডার্ক ওয়েব’ (Dark Web), এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) অধীনস্থ সাইবার নিরাপত্তা শাখা ‘সাইবার দোস্ত’ (CyberDost) এই ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বেড়ে চলা অপরাধ নিয়ে এক গুরুতর সতর্কতা জারি করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রতারকরা ডার্ক ওয়েব থেকে চুরি করা সংবেদনশীল ডেটা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।

কীভাবে ফাঁদ পাতা হচ্ছে? সাইবার অপরাধীরা প্রথমে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক বা ওয়েবসাইট থেকে ফাঁস হওয়া ডেটা ডার্ক ওয়েবে কিনে নেয়। এই ডেটায় ইমেল, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস এবং পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। এরপর এই চুরি করা তথ্য ব্যবহার করে তারা ফোন, ইমেল বা মেসেজের মাধ্যমে মানুষকে ঠকায়।

ঠগরা নিজেদের ব্যাংক কর্মকর্তা বা সরকারি এজেন্সির কর্মী পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানায় যে তাদের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভয় বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লে, ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকদের সঙ্গে শেয়ার করে ফেলেন বা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করেন, যার ফলে তাদের অর্থ বা ডেটা চুরি হয়ে যায়।

ডার্ক ওয়েব কী? ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের সেই গোপন অংশ, যা গুগল বা ইয়াহুর মতো সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে অ্যাক্সেস করা যায় না। এটি ব্যবহার করার জন্য ‘টর ব্রাউজার’-এর (Tor Browser) মতো বিশেষ সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। এখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান সম্পূর্ণরূপে গোপন থাকে, আর এই সুযোগের ফায়দা নেয় সাইবার অপরাধীরা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি ‘ডিপ ওয়েব’-এরই একটি অংশ, যেখানে ডেটা চুরি, হ্যাকিং টুলসের বিক্রি এবং জাল পরিচয় তৈরির মতো বেআইনি কার্যকলাপ চলে।

নিরাপদ থাকার ৫টি জরুরি উপায়: ১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: আপনার প্রতিটি অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। ২. ২এফএ চালু রাখুন: সব অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) অবশ্যই চালু করুন। ৩. সতর্ক থাকুন: অচেনা বা সন্দেহজনক লিঙ্ক, ইমেল বা কলের উপর ভরসা করবেন না। ৪. ওটিপি/পাসওয়ার্ড নয়: মনে রাখবেন, ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনই আপনার ওটিপি (OTP) বা পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। ৫. সফটওয়্যার আপডেট: মোবাইল ও কম্পিউটারের সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখুন।

যদি কোনো প্রতারণার শিকার হন, সঙ্গে সঙ্গে cybercrime.gov.in-এ অথবা ১১২ (112) হেল্পলাইনে অভিযোগ করুন। ডিজিটাল যুগে সতর্ক থাকাই হলো সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রধান চাবিকাঠি।