“সেই নেহরুই দোষী….”-‘বন্দে মাতরম’ উদযাপনের দিন BJP-র হাতিয়ার ‘বঙ্কিমপ্রেম’?

শুক্রবার রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উদযাপনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে তিনি যেমন উদযাপনের সূচনা করলেন, তেমনই এই পবিত্র সঙ্গীতকে ঘিরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করলেন, যা আগামী এক বছর ধরে চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস ১৯৩৭ সালে রাষ্ট্রগীতের স্তবক বাদ দিয়ে গানটিকে ‘বিকৃত’ করেছিল বলে বিজেপি নেতাদের করা অভিযোগের মঞ্চ থেকেই তাতে সিলমোহর দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
🗣️ মোদী যা বললেন: ‘আত্মা’ ও ‘দেশভাগের বীজ’
বন্দে মাতরমকে স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্ঠস্বর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন,
“দুর্ভাগ্যবশত ১৯৩৭ সালে, বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবকগুলি, বলা যেতে পারে এর আত্মাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বন্দে মাতরমকে বিভক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশভাগের বীজও বপন করা হয়েছিল।”
মোদী আরও বলেন, “আজকের প্রজন্মের জানা দরকার যে দেশ গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল… এই বিভাজনের মানসিকতা এখনও দেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।”
⚔️ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সিআর কেশবন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মোদীর মতে ঠিক কোন স্তবকগুলি এই গানের ‘আত্মা’ ছিল। তিনি বলেন, দেবী দুর্গার প্রশস্তি করা হয়েছিল যে স্তবকগুলিতে, নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস ইচ্ছাকৃত ভাবে সেই স্তবকগুলিই সরিয়ে দিয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, “নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস দল নির্লজ্জ ভাবে তাদের সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ১৯৩৭ সালের ফৈজাপুর অধিবেশনে বন্দে মাতরমের একটি ছোট সংস্করণকে রাষ্ট্রগীত হিসেবে গ্রহণ করেছিল।”
📜 বন্দে মাতরমের ইতিহাস ও প্রতীকী গুরুত্ব
১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়। পরে তা ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে (১৮৮২) ব্যবহৃত হয়। গানটির প্রথম দুটি স্তবকে মাতৃভূমি সম্পর্কে বিমূর্ত উল্লেখ থাকলেও, পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবী দুর্গার উল্লেখ রয়েছে।
- ১৮৯৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে গানটি গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- স্বাধীনতার পরে গণপরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক করে, ‘জন গণ মন অধিনায়ক’ হবে জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘বন্দে মাতরম’ হবে রাষ্ট্রগীত বা জাতীয় স্তোত্র।
🚩 বঙ্কিমকে নিয়ে বঙ্গের নির্বাচনেও টানাটানি
আগামী এক বছর ধরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন চলবে। সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি স্পষ্ট করে দিল যে এই গানকে তারা কংগ্রেসকে আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে আসন্ন বঙ্গের নির্বাচনও।
এদিন কলকাতার বুকে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে বঙ্গ বিজেপি, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংবাদ সংস্থা ANI-কে বলেন, “আমরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। জনসাধারণও বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস কোনও দেশপ্রেমিক দল নয়।”