SIR আতঙ্কে মৃত্যু? যৌনকর্মীর ঝুলন্ত দেহ নিয়ে তুঙ্গে রাজনীতি, চলছে জোর চর্চা

রাজ্যে তথাকথিত ‘এসআইআর’ (SIR- Social Identity Register) আতঙ্ককে কেন্দ্র করে ফের এক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। শুক্রবার হুগলির শেওড়াফুলি স্টেশন লাগোয়া গড়বাগানের যৌনপল্লীতে নিজের ঘর থেকে এক যৌনকর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার এসআইআর আতঙ্কই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে ঘর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে যৌনপল্লীর অন্যান্য মহিলারাই শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন চাঁপদানীর তৃণমূল বিধায়ক তথা হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরিন্দম গুঁইন। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি ও এসআইআর-এর আতঙ্ককে দায়ী করেছেন।
🗣️ তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুঁইনের অভিযোগ: “২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর (মৃতার) নাম ছিল না। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কেই তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। বিজেপি চাইছে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিতে। SIR-এর নাম করে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। সেই কারণেই এই মৃত্যু।”
অন্যদিকে, স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সিং জানিয়েছেন, মৃত মহিলা প্রায় তিন দশক ধরে ওই এলাকায় থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি এসআইআর সংক্রান্ত কাগজ জমা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগে ছিলেন।
⚔️ বিজেপি-র পাল্টা দাবি: পারিবারিক অশান্তির জের
এই ঘটনার পিছনে এসআইআর-এর যোগ মানতে নারাজ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা স্বপন পাল পাল্টা দাবি করেছেন, “এটি আত্মহত্যা নয়, পারিবারিক অশান্তির জেরে মৃত্যু। তৃণমূল সবকিছুতে এসআইআর আতঙ্ক টেনে এনে রাজনৈতিক রং দিতে চাইছে। এসআইআর আসলে ভুয়ো ভোটার এবং মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া। এখানে ভয় দেখানোর কিছু নেই।”
অন্যদিকে, যৌনপল্লীর এক বাসিন্দার দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে মৃতার ঝগড়া হয়। এরপর স্বামী ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শুক্রবার সকালে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।