‘চিকেনস নেক’এ বড়সড় অ্যাকশন নিল ভারতীয় সেনা, জেনেনিন হঠাৎ কী চলছে?

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এবার পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষত, উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর (চিকেনস নেক) ব্যবহার করে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালানোর ছক কষছে ইসলামাবাদ ও ঢাকা। গোয়েন্দা রিপোর্টে এই খবর পাওয়ার পরই দ্রুত সতর্ক হল ভারত। যার নির্যাস, সীমান্ত এলাকায় তিনটি নতুন স্থায়ী সেনা ব্যারাক বা সেনা ছাউনি বসাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
📍 ‘চিকেনস নেক’ সুরক্ষায় ৩ নতুন সেনা ঘাঁটি
শিলিগুড়ি করিডরকে আরও সুরক্ষিত করতে এবং ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের ষড়যন্ত্র রুখতে কেন্দ্র এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো:
বামুনি (ধুবরির কাছে)
কিষাণগঞ্জ
চোপড়া
এই তিনটি এলাকা সরাসরি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি করিডর ব্যবহার করে জঙ্গিদের আনাগোনা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে শুরু হয়েছে। তাই এই করিডরকে সুরক্ষিত রাখাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য।
🤝 ইসলামাবাদের প্রতি ঢাকার সখ্য বৃদ্ধি
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ঢাকার বিদেশনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রথমত, পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, চিনের জন্য অবারিত দ্বার খুলে দেওয়া।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ সেনাকর্তা জেনারেল শাহির শমশদ মির্জার সঙ্গে একাধিক সামরিক চুক্তি করেছেন। পাকিস্তান ঢাকাকে কথা দিয়েছে, বাংলাদেশ তাদের যুদ্ধবিমান এবং মিসাইল ব্যবহার করতে পারবে। সামরিক শক্তিতে দুই দেশের এই জোট এখন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। অনেকেই মনে করছেন, ভারত বছরের পর বছর ধরে সাহায্য করার পরও ঢাকা ইসলামাবাদের ‘পায়ের ধুলো’ চাটা শুরু করেছে।
🛡️ চিনেরও নজর, তবে ভারত প্রস্তুত
গোয়েন্দাদের মতে, এই জোট আসলে এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মূল লক্ষ্য শিলিগুড়ি করিডরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই ষড়যন্ত্রে চিনও নজর রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অঞ্চলে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন সেনা ঘাঁটিগুলি তৈরি হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাকে একযোগে মজবুত করা হচ্ছে।
সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি করিডর আজ দেশের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা রেখা। এই এলাকা পাহারায় রয়েছে ত্রিশক্তি কোর, রাফাল যুদ্ধবিমান এবং ব্রহ্মস মিসাইলের মতো অত্যাধুনিক সামরিক ব্যবস্থা। নতুন সেনা ঘাঁটি তৈরি হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা চলাচল আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।