‘বাংলায় সবাই না করলে ফর্ম ভরব না’! এসআইআর নিয়ে মমতার অবস্থানে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (SIR – Special Enrolment Revision) শুরু হতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ফর্ম পূরণে অনীহা প্রকাশ করেছেন, অন্য দিকে এই ইস্যুতেই তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি নিজের হাতে বিএলও-র কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণ করেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান
ফেসবুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “গতকাল দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও আমাদের পাড়ায় এসেছিলেন তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ করতে। কর্মসূত্রে আমার রেসিডেন্স অফিসে এসে বাড়িতে রেসিডেন্সে কতজন ভোটার জেনেছেন, ফর্ম দিয়ে গিয়েছেন।”
তিনি একই সঙ্গে তাঁর দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে দেন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “যতক্ষণ না বাংলার প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করছে আমি নিজে কোনো ফর্ম পূরণ করিনি এবং করবো না।”
সুকান্ত মজুমদারের তীব্র কটাক্ষ
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই তাঁকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্ত মজুমদারের চ্যালেঞ্জ: “আমরা বলেছি মুখ্যমন্ত্রী সবার আগে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন। ওর বাড়িতে সতেরো খানা ফর্ম গিয়েছে বলে খবর আছে আমাদের কাছে। দেখতে থাকুন মুখ্যমন্ত্রী সবার আগে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন।”
ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান: সুকান্ত আরও বলেন, “যদি এক কথার মানুষ হন সত্যিই যেন ফর্ম ফিলাপ না করেন। আপনার নামটা যেন ভোটার তালিকায় না থাকে।”
সিপিএম-এর ‘অডিও বোমা’
রাজ্যে যখন এসআইআর নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে, তখন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বৃহস্পতিবার একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেন। সিপিএম-এর দাবি, এই রেকর্ডিংয়ে রাজ্যের শাসক দলের কোনো নেতা একজন মহিলা বিএলও-কে ভয় দেখাচ্ছেন।
অডিওতে কী শোনা যাচ্ছে: রেকর্ডিংয়ে একজন মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “অফিস থেকে বার বার বলছে তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমাদের পাড়া থেকে শুরু করেছি।” জবাবে পুরুষ কণ্ঠটি বলছেন, “তোকে আমি বললাম আমাকে একবার জানাবি। এই পাগলামি কিন্তু করিস না, অন্য ছেলেপিলে থাকবে। তখন কিন্তু কিছু হয়ে যাবে, বলবি আমার সুরক্ষা নেই, এই নেই।”
এসআইআর শুরু হওয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান হাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর পর এই অডিও প্রকাশ এবং বিএলও-কে ভয় দেখানোর অভিযোগ রাজ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।