ছেলের শেষকৃত্য করলেন বাবা-মা, ৩ দিন পর হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন ‘মৃত’ পুরুষোত্তম! স্তম্ভিত ছত্তিশগড়ের পুলিশ

ছত্তিশগড়ের সুরজপুর জেলার মানপুর এলাকায় সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যা শোকে স্তব্ধ পরিবেশকে এক লহমায় আনন্দে বদলে দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই ঘটনা পুলিশের কাছে এক নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সুরজপুর জেলার অন্তর্গত চন্দরপুরের বাসিন্দা পুরুষোত্তমকে নিয়ে। দু’দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন, যার ফলে তাঁর পরিবার ধরে নিয়েছিল যে ছেলে আর বেঁচে নেই। গত শনিবার, এই জেলারই মানপুর এলাকায় একটি কুয়ো থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অজ্ঞাত দেহকে ছেলে ভেবে শেষকৃত্য
পুলিশের খবর পেয়ে পুরুষোত্তমের পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছন। দেহটি শনাক্ত করার চেষ্টা হয়, কিন্তু নিখোঁজ থাকার মানসিক যন্ত্রণায় পরিবার মৃতদেহটি দেখেই ধরে নেয় যে এটি তাঁদের ছেলে পুরুষোত্তমেরই দেহ। এরপর পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে এবং মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরিবারের সকলে শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে মৃতের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
৩ দিন পর হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলেন ‘মৃত’
কিন্তু, ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে গত মঙ্গলবার। অর্থাৎ, ‘মৃতদেহের’ শেষকৃত্যের মাত্র তিন দিন পরে! আচমকা হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে আসেন পুরুষোত্তম। বাড়িতে তখন শেষকৃত্যের পর আচার-অনুষ্ঠান চলছিল। ছেলেকে জীবিত দেখে পরিবারের সদস্যরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। শোকস্তব্ধ পরিবেশ এক লহমায় বদলে যায় আনন্দ-অনুষ্ঠানে। বাবা-মা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
পরে পুলিশ জানতে পারে, পুরুষোত্তম আসলে অম্বিকাপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর শেষকৃত্যের খবর পেয়ে সেই আত্মীয়রাই তাঁকে অম্বিকাপুর থেকে ফিরিয়ে আনেন।
পুলিশের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনা এখন সুরজপুর পুলিশের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ সুপার সন্তোষ মাহাতো বলেন,
“মৃত ব্যক্তির পোশাক এবং অন্যান্য জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে ওই মৃত ব্যক্তির আসল পরিচয় জানার চেষ্টা চলবে। ডিএনএ পরীক্ষা-সহ সমস্ত তদন্ত ফের শুরু হবে।”
পরিবারের সদস্যদের ভুলবশত শনাক্ত করার ফলে এখন পুলিশকে নতুন করে কুয়ো থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মৃতদেহটির আসল পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে।