৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলা, ‘পার্থ-অভিষেকের যোগসাজশ’! বিস্ফোরক অভিযোগ মামলাকারীদের, নস্যাৎ করলেন রাজ্যের এজি

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে এক চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একদিকে যেমন মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীরা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সেই অভিযোগগুলি কার্যত নস্যাৎ করে দিলেন।
আগামী ১১ নভেম্বর ফের এই মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের বক্তব্য
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত দাবি করেন, ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীদের দাবিকে তিনি ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দেন:
“কাল্পনিক বক্তব্য দিয়ে এই মামলায় রক্ত সঞ্চার করা যাবে না। অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়েছিল, তার প্রমাণপত্রও রয়েছে।”
মামলার শুরুতে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীরা ‘এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি’ নামক একটি এজেন্সিকে বেআইনিভাবে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। এজি কিশোর দত্ত সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন, “এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির এই নিয়োগে কোনও ভূমিকাই ছিল না। শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজ ছাড়া তারা অন্য কোনও ভূমিকা পালন করেনি। প্রয়োজনে রাজ্য সমস্ত নথি আদালতে পেশ করবে।”
পার্থ-অভিষেকের যোগসাজশের বিস্ফোরক অভিযোগ
তবে শুনানিতে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীরা (বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস শামিম, সুদীপ্ত দাশগুপ্তরা) এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা আদালতে দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসাজশ ছিল।
তাঁদের দাবি:
সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, বিকাশ ভবনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২৪ জনের তালিকা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানির অন্যতম কর্মচারী সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, বেআইনি নিয়োগ বিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যোগসাজশ ছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ কোটি টাকা তুলে দেওয়ার জন্য দাবি করেছিলেন।
এছাড়াও, মেধাতালিকায় কম নম্বর পেয়েও অনেকে চাকরি পেয়েছেন এবং ২০১৬ সালের নিয়োগেও আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে সিবিআই রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
মামলাকারীরা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান।
গোড়ার কথা: উল্লেখ্য, গত বছর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে ৩৬ হাজার এবং পরে তা ৩২ হাজার কর্তব্যরত প্রাথমিক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর মামলাটি ডিভিশন বেঞ্চে গেলে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ আসে এবং তখন থেকেই শুনানি চলছে।