পহেলগাঁও হামলার প্রত্যুত্তর দিতেই নতুন ষড়যন্ত্র? ড্রোন ব্যবহার করে দুর্বল স্থান চিহ্নিত করছে পাক মদতপুষ্ট BAT বাহিনী

গোয়েন্দা রিপোর্টে ফের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর পরেও পাকিস্তান শিক্ষা নেয়নি। সে দেশের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জঙ্গি সংগঠনগুলি গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের মাটিতে বসেই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের সেনার স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG) এবং কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা।

গোয়েন্দা রিপোর্টে মূল তথ্য:

হামলার ছক: গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই উপত্যকায় আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা হতে পারে।

ড্রোন নজরদারি: জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই ড্রোন ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণরেখা (LOC) বরাবর বিভিন্ন দুর্বল স্থানে নজরদারি চালিয়েছে এবং অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছে।

BAT বাহিনীর সক্রিয়তা: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) নতুন করে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার অ্যাকশন টিম বা ব্যাট (BAT) বাহিনী। এই বাহিনীতে SSG-এর প্রাক্তন সেনা ও জঙ্গিরা রয়েছে, যারা সীমান্ত পারাপারে জঙ্গিদের সাহায্য করছে।

গুপ্ত বৈঠক: গত সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল, যেখানে আইএসআই আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভারতবিরোধী হামলার পরিকল্পনা গৃহীত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট:

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নতুন নাশকতার ছক তৈরি হচ্ছে এপ্রিল মাসের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রত্যুত্তর দিতে। সেই হামলায় ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর জবাবেই ভারত গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে লস্কর ও জইশের বেশ কিছু ঘাঁটি ধ্বংস হয়। এই অভিযানের পরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ভারতীয় সেনার প্রস্তুতি:

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় সেনা। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যে কোনও হামলার মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্ত বরাবর বিশেষ নজরদারির জন্য থার্মাল সেন্সর ও ড্রোন টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই কৌশল কাশ্মীরের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে ভারতের শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের এই নতুন ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।