“যদি আজ সবকিছু ঠিক না হয়”-পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে! জেনেনিন বিস্তারিত

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র সামরিক সংঘাত এবং উত্তেজনার পর অবশেষে আজ তুরস্কে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হতে চলেছে। তবে এই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খ্বাজা আসিফ যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তাতে সমগ্র অঞ্চলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে খ্বাজা আসিফ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি বলেছেন, “যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে। যেভাবে আমাদের টার্গেট করা হচ্ছে, আমরাও সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি।”
সাংবাদিক যখন জিজ্ঞাসা করেন এর অর্থ কি যুদ্ধ, তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিস্ফোরক জবাব ছিল, “হ্যাঁ… শুধু যুদ্ধ।”
⚔️ কাঠগড়ায় পাক সামরিক নেতৃত্ব
এর আগের শান্তি আলোচনা থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত এই সংঘাতের কারণ হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে:
১. মার্কিন ড্রোন হামলা: আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করছে এবং ইসলামাবাদ তা বন্ধ করতে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম। এই বিষয়টি আফগান সরকারের কাছে ইসলামাবাদের অবস্থান দুর্বল করছে। ২. সেনা বনাম সরকার: আফগান তালিবান কর্তারা দাবি করেছেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারকে এড়িয়ে কাবুলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
🇺🇸 ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন
শাহবাজ শরিফ যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন, সেই সময় সেখানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন একটি দেশের সামরিক প্রধান সরাসরি অন্য কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আফগান তালিবানদের অভিযোগ এবং পাকিস্তানি সামরিক মহলের ভূমিকা এমন এক সময়ে তদন্তের মুখে পড়েছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আজ তুরস্কে শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের আলোচনা যুদ্ধ না শান্তি—কোন দিকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।