শিব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষে ‘ঐশ্বরিক আলো’! মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল চোল সাম্রাজ্যের সোনার মোহর!

আশ্চর্যজনক আবিষ্কার! তামিলনাড়ুর তিৰুভান্নামালাই জেলার জাভাদুমলই (Javvadhumaalai) পাহাড়ের একটি প্রাচীন শিব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ সংস্কারের কাজ শুরু হতেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরটির জীর্ণ অবস্থা দেখে গ্রামবাসীরা সেটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মূর্তিটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে খনন কাজ শুরু হতেই শ্রমিকরা মাটির গভীরে একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও চকচকে বস্তু দেখতে পান। প্রথমে এটিকে কোনো ‘ঐশ্বরিক শক্তি’ মনে হলেও, আরও খননের পর জানা যায় আসল রহস্য।
আসলে, মন্দির সংস্কারের কাজের সময় মাটি খুঁড়ে প্রচুর সোনার মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি জানার পরই সঙ্গে সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মুদ্রাগুলি বাজেয়াপ্ত করেন। এই মুদ্রাগুলি কেবল স্বর্ণমুদ্রা নয়, এগুলি দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজবংশ চোল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক গৌরবের জীবন্ত প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন রাজার মুদ্রা? চলছে গবেষণা
চোলরা দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসে শিল্পকলা, মন্দির স্থাপত্য এবং উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, জাভাদুমলই পাহাড়ে পাওয়া এই মুদ্রাগুলি সেই সময়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মন্দির পরিচালনার নতুন দিকগুলি উন্মোচন করবে।
বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মুদ্রাগুলির ঢালাই পদ্ধতি, প্রতীক, লিপি এবং খোদাই করা চিত্রগুলির গভীর বিশ্লেষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে এটি কোন রাজার সময়ের মুদ্রা এবং সেগুলির বয়স কত, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
কেন লুকানো হয়েছিল এই ধন?
স্থানীয়দের ধারণা, মন্দিরটি যেহেতু একটি সুরক্ষিত পাহাড়ে অবস্থিত, তাই সম্ভবত যুদ্ধের সময় আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য এই বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা এই আবিষ্কারে খুবই খুশি, কারণ তাঁদের গ্রামের যে এমন ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকতে পারে, তা তাঁরা ভাবতেও পারেননি।
এই আবিষ্কারের পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা মন্দির এলাকাটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এবং পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছেন। কর্মকর্তারা কেবল মন্দিরের চারপাশে নয়, আশেপাশের গ্রামগুলিতেও তাঁদের অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা আশা করছেন, এই অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।