থারুরের ‘বিস্ফোরক’ লেখায় তোলপাড়! কংগ্রেস নেতার নাম দিল ‘খতরোঁ কা খিলাড়ি’, কী বললেন বিজেপি?

বংশবাদ ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য ‘বিরাট বিপদ’, মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। নিজের দল কংগ্রেসের পাশাপাশি দেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বংশবাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ‘প্রজেক্ট সিন্ডিকেট’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে থারুর স্পষ্ট করেছেন, ভারতে এখন সময় এসেছে বংশবাদের বদলে যোগ্যতাকে জায়গা দেওয়ার।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থারুর দাবি করেন, আজকের ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই বংশবাদ রয়েছে, যা শাসনব্যবস্থার গুণমানকে প্রভাবিত করছে এবং গণতন্ত্রের মূল প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, নেহেরু-গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হলেও বংশতান্ত্রিক উত্তরাধিকার পুরো রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান। তিনি শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তান (ভুট্টো, শরিফ), বাংলাদেশ (শেখ, জিয়া) এবং শ্রীলঙ্কার (বন্দরনায়েকে, রাজাপক্ষে) মতো প্রতিবেশী দেশগুলির উদাহরণও তুলে ধরেন।

২০২২ সালে কংগ্রেস সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই নেতা আরও বলেন, দলগুলির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, যার সিদ্ধান্ত সাধারণত একটি ছোট গোষ্ঠী বা একক নেতার মাধ্যমে নেওয়া হয়। এর ফলস্বরূপ, ভাই-ভাতিজাবাদ সাধারণত যোগ্যতার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তিনি ওড়িশার বিজু পট্টনায়কের পর নবীন পট্টনায়ক, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের পর উদ্ধব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের পর অখিলেশ যাদবের মতো উদাহরণ টেনে আনেন।

থারুর জোর দিয়ে বলেছেন, বংশবাদী রাজনীতি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এটিকে নির্মূল করতে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক মেয়াদসীমা, অর্থপূর্ণ অভ্যন্তরীণ দলীয় নির্বাচন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোটারদের পছন্দের উপর জোর দিয়ে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

থারুরের এই ‘বিস্ফোরক’ লেখার পরই রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা সরাসরি রাহুল গান্ধী ও গান্ধী পরিবারকে লক্ষ্য করে থারুরকে ‘খতরোঁ কা খিলাড়ি’ (সাহসী খেলোয়াড়) বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও কংগ্রেসের একাধিক নেতা দলের ও গান্ধী পরিবারের সমর্থনে মুখ খুলেছেন।