দূষিত বাতাসে চোখ বাঁচাতে কী করবেন? অ্যালার্জি ও দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি! Dr. গ্রোভারের অব্যর্থ উপায়, ডেইলিয়ান্টে যা ভাইরাল হবে

প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের আগমন হতেই দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR)-এর বাতাস মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আকাশছোঁয়া দূষণের কারণে সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি চোখেও চরম অস্বস্তি বোধ করছেন। এই দূষিত হাওয়ায় থাকা বিষাক্ত কণাগুলির কারণে ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি চোখও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইরে বেরোলেই অনেকের চোখে জ্বালা, অ্যালার্জি এবং শুষ্কতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাঁদের চোখ বেশি সংবেদনশীল, তাঁরা আরও বেশি ভুগছেন।
নয়াদিল্লির সিরি ফোর্ট-এ অবস্থিত ভিশন আই সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর ড. তুষার গ্রোভার (Dr. Tushar Grover) জানান, এই সময় দূষণের কারণে চোখে সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাতাসে থাকা PM 2.5 এবং PM 10-এর মতো সূক্ষ্ম কণাগুলি সরাসরি চোখের উপরিভাগে প্রভাব ফেলে, যার ফলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসের (Allergic Conjunctivitis) ঝুঁকি বাড়ে।
দূষিত গ্যাস ও ধূলিকণা চোখের আর্দ্র অংশ কনজাংটিভা (Conjunctiva) এবং কর্নিয়াতে (Cornea) জমে গিয়ে প্রদাহ তৈরি করে, যার ফলে চোখ চুলকায়, লাল হয়ে যায় এবং জ্বালা করে। দীর্ঘক্ষণ এই বিষাক্ত হাওয়ার সংস্পর্শে থাকলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায় এবং ‘ড্রাই আই সিনড্রোম’-এর (Dry Eye Syndrome) সমস্যা বাড়ে। পূর্ব থেকেই অ্যালার্জি বা চোখের সংক্রমণে ভুগছেন, এমন মানুষদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি বিপজ্জনক।
বিষাক্ত বাতাস থেকে চোখকে রক্ষা করার ৫টি সহজ উপায়:
ডাক্তার গ্রোভারের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখকে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা জরুরি:
১. ঠান্ডা সেঁক ও আই ড্রপ: দিনে অন্তত দুবার ঠান্ডা জল বা বরফের প্যাক দিয়ে চোখে সেঁক দিন। এতে জ্বালা ও ফোলাভাব কমবে। চোখ শুষ্ক মনে হলে লুব্রিকেটিং আই ড্রপস (Lubricating Eye Drops) ব্যবহার করুন। তবে ড্রপ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. সুরক্ষামূলক চশমা: বাড়ি থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানগ্লাস বা প্রোটেক্টিভ গ্লাস পরুন, যা চোখকে ধুলো ও ধোঁয়া থেকে বাঁচাবে।
৩. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: দূষণের কণা দূর করতে বারবার মুখ ও চোখ ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই এই অভ্যাস বজায় রাখুন।
৪. শরীরে জলীয় ভাব: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন (দিনে ৮-১০ গ্লাস)। এতে শরীরে হাইড্রেশন বজায় থাকবে এবং চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা অটুট থাকবে।
৫. সঠিক খাবার: ভিটামিন এ, সি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন – গাজর, পালং শাক, মাছ, তিসির বীজ ও কমলালেবু খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। এই উপাদানগুলি চোখের কোষকে মজবুত করে এবং দূষণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
এছাড়াও, AQI যখন খুব খারাপ থাকে, তখন বাইরে কম বের হোন। বাইক বা স্কুটি চালানোর সময় হেলমেটের গ্লাস নামিয়ে রাখুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চোখ রগড়ানো এড়িয়ে চলুন এবং যদি ক্রমাগত জ্বালা, ব্যথা বা দৃষ্টিতে সমস্যা হয়, তবে দেরি না করে একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।