শক্তি বাড়িয়ে ‘বিপজ্জনক’ মোন্থা, ৯০-১১০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব! সতর্ক উপকূল, ঝাড়খণ্ডেও চরম সতর্কতা

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ মঙ্গলবার সকালে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে (Severe Cyclonic Storm) পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। IMD-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আজ সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। মাছিলিপত্তনম এবং কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি কাকিনাড়ার কাছাকাছি এর ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা।

ঝড়ের গতিবেগ ও সতর্কতা:

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড় মোন্থা-এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই মুহূর্তে মোন্থার প্রভাবে দক্ষিণ ওড়িশার আটটি জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

IMD ভুবনেশ্বরের পরিচালক ডঃ মনোরমা মোহান্তির মতে, ‘মোন্থা’ বর্তমানে গোপালপুর থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আজ সন্ধ্যা/রাতে কাকিনাড়ার কাছে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে।

লাল সতর্কতা জারি:

ওড়িশার উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর এবং কালাহান্ডি জেলায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের আশঙ্কায় লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তৎপরতা:

যেহেতু ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে অতি দ্রুত ধেয়ে আসছে, তাই অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাইফগার্ড ও দমকল বিভাগের কর্মীরা পর্যটকদের সমুদ্রে যেতে এবং উপকূল থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করছেন। কাকিনাড়ার মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (NDRF) পরিদর্শন করছে এবং নাগরিকদের সতর্ক করছে।

এছাড়াও, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।