ওজন কমানোর চাবিকাঠি আপনার হাতে! স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এই ৩টি সহজ টিপস বদলে দেবে জীবন!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে স্থূলতার (Obesity) হার ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে প্রায় ১০-১৫ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সমস্যায় জর্জরিত। পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং বাইরের বা প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি নির্ভরশীলতা এই অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

এই পরিস্থিতিতে, সহজে ওজন কমানোর এক কার্যকরী পথ দেখাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মন্ত্রক সম্প্রতি টুইটারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো অতিরিক্ত পরিশ্রম ছাড়াই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, যদি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের টুইটে কী বলা হয়েছে?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘হাইড্রেশন’ বা শরীরে জলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রক জনসাধারণকে আজ থেকেই তাদের দৈনিক জল পানের অভ্যাসের উপর নজর দিতে বলেছে। তাদের বার্তা, “ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং একটি ফিট জীবনযাত্রার দিকে এটি আপনার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে!”

স্বাস্থ্য মন্ত্রক তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে:

ওজন কমানোর জন্য সঠিক হাইড্রেশন অপরিহার্য।

নির্দিষ্ট পরিমাণে জল পান ওজন হ্রাসকে ত্বরান্বিত করে।

কম জল পান করলে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা আসতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আমাদের দেহের প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ অংশই জল দিয়ে তৈরি।

দৈনিক কতটা জল পান করা উচিত?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক গড়ে প্রায় ৮ গ্লাস জল পান করা উচিত। তবে সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে, পুরুষদের জন্য দিনে প্রায় ৩.৭ লিটার এবং মহিলাদের জন্য প্রায় ২.৭ লিটার জল পান করা আদর্শ। যাঁরা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন বা যাঁদের প্রচুর ঘাম হয়, তাঁদের জলের চাহিদা আরও বেশি।

জল পানের সঠিক পদ্ধতি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে গোগ্রাসে জল পান করার বদলে, আরাম করে বসে ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে জল পান করা উচিত। এর পাশাপাশি, শুধু তেষ্টা পেলে নয়, তেষ্টা পাওয়ার আগেই নিয়মিত বিরতিতে জল পান করা জরুরি।