ফোনের ছবিতেও নজর দিচ্ছে ফেসবুক, জেনেনিন কিভাবে?

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক (Facebook) তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবস্থাকে উন্নত করতে এবার এমন এক ফিচার এনেছে, যা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হওয়া এই নতুন সিস্টেমে, আপনার মোবাইল ফোনে তোলা, কিন্তু এখনো ফেসবুকে শেয়ার করা হয়নি— এমন ছবিগুলোর ওপরেও নজর রাখছে ফেসবুকের এআই।
💡 যেভাবে কাজ করে এই বিতর্কিত ফিচার
এই ফিচারটি আপাতত ব্যবহারকারীদের সম্মতির ভিত্তিতে কাজ করছে। সম্মতি দিলেই তবেই ব্যবহারকারীর ছবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে সৃজনশীল পরামর্শ (যেমন: কোলাজ, জন্মদিনের থিম, পুনরালোচনা বা নকশা পরিবর্তনের সাজেশন) পাঠাবে ফেসবুক।
- সম্মতির প্রক্রিয়া: ব্যবহারকারীর সামনে প্রথমে একটি বার্তা আসবে, যেখানে লেখা থাকবে: “আপনার গ্যালারির ছবি থেকে সৃজনশীল ধারণা দিতে ফেসবুককে ক্লাউড প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিন।”
- ক্লাউড প্রক্রিয়াকরণ: আপনি তাতে সম্মতি দিলে ফেসবুক অ্যাপটি নিয়মিতভাবে ব্যবহারকারীর ফোন থেকে ছবি মেটার ক্লাউড সার্ভারে পাঠাবে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে সম্পাদনা বা পোস্ট করার পরামর্শ দেবে।
🛑 আপনার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে মেটা
মেটা যদিও জানিয়েছে, এই ছবিগুলো বিজ্ঞাপন বা লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হবে না। তবে যদি ব্যবহারকারী সেই ছবি সম্পাদনা করেন বা ফেসবুকে শেয়ার করেন, তাহলে ওই তথ্য তাদের এআই সিস্টেম উন্নয়নে কাজে লাগানো হতে পারে।
মেটার পলিসি (নিয়ম) অনুযায়ী, ব্যবহারকারী অনুমতি দিলে তাদের ছবিতে থাকা মুখ, মানুষ, বস্তুর উপস্থিতি ও ছবির সময়-তারিখ বিশ্লেষণ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে মেটার হাতে ব্যবহারকারীদের আচরণ ও তাদের রুচি-পছন্দের বিশাল এক তথ্যভান্ডার তৈরি হবে।
অর্থাৎ, আপনি ছবি শেয়ার না করলেও মেটা আপনার জীবনযাত্রা, সম্পর্ক কিংবা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
📢 এআই প্রশিক্ষণে আরও কড়াকড়ি মেটার
এর আগেও মেটা ঘোষণা করেছিল যে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত পাবলিক পোস্ট, মন্তব্য ও ছবি তারা তাদের ছবি শনাক্তকরণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তীব্র বিতর্ক দেখা দিলে, সেখানকার ব্যবহারকারীরা ২০২৫ সালের ২৭ মে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের সুযোগ পেয়েছিলেন।
এখন নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত গ্যালারিতে প্রবেশাধিকার চাওয়ায় বিশ্বজুড়ে গোপনীয়তা নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হলো।