ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ আরও শক্তিশালী! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্ধ্র উপকূলে ল্যান্ডফলের আশঙ্কা, বাংলায় কোথায় কোথায় ভারী বৃষ্টি?

দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ (Cyclone Montha) ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে এবং এটি এখন তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পথে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে এই ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে (Severe Cyclonic Storm) পরিণত হবে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে ল্যান্ডফল করতে পারে। ল্যান্ডফলের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলায় পরোক্ষ প্রভাব

ঘূর্ণিঝড় মান্থার কেন্দ্র বাংলার উপরে না থাকলেও, তার পরোক্ষ প্রভাব রাজ্যের দুই অংশেই পড়বে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।

দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস: ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ।

এই সময়ে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে এবং আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়বে।

উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস: ৩১ অক্টোবরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।

অতি ভারী বৃষ্টি (২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত): দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি।

এছাড়াও মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

মৎস্যজীবীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা

ঘূর্ণিঝড় মান্থার গতিবিধি বিবেচনা করে দক্ষিণ ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাওয়া অফিস। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোনো ট্রলার বা নৌকাকে যাত্রা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে থাকা ট্রলারগুলিকে সোমবারের মধ্যেই উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং এনডিআরএফ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম মোতায়েন করা হয়েছে।