১২ রাজ্যে SIR শুরু হলেও অসম কেন বাদ? কারণ ব্যাখ্যা করে নাগরিকত্ব আইনের দোহাই দিল নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া থেকে অসমকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার।

সোমবার রাজধানীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিইসি কুমার জানান, নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আসামের জন্য আলাদা বিধান রয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সেখানে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ হতে চলেছে।

অসমের জন্য আলাদা নির্দেশিকা

সিইসি কুমার বলেন, “ভারতের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আসামের জন্য আলাদা বিধান রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সেখানে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ হতে চলেছে। (আগের) SIR আদেশটি সারা দেশের জন্য ছিল। এই পরিস্থিতিতে, এটি আসামের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তাই, আসামের জন্য সংশোধনের আলাদা আদেশ জারি করা হবে।”

উল্লেখ্য, যদিও ২০২৬ সালে অসমে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও এই মুহূর্তে SIR প্রক্রিয়া সেখানে চালু হচ্ছে না। নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা 6A, আসাম চুক্তির আওতায় থাকা নাগরিকদের জন্য বিশেষ বিধান প্রদান করে।

SIR-এর দ্বিতীয় পর্বে কোন কোন রাজ্য?

সিইসি কুমার জানান, SIR-এর এই দ্বিতীয় পর্বের আওতায় থাকবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে।

আধার কার্ড নিয়ে কমিশনের অবস্থান

আধার কার্ডের ব্যবহার নিয়েও অবস্থান ব্যাখ্যা করে সিইসি কুমার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করে, বিহারে SIR সম্পর্কিত ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী ১২টি নির্দেশক নথির তালিকায় আধারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন: “আধার কার্ড পরিচয়ের প্রমাণ এবং এটি ই-সাইনিংয়ের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।”

সিইসি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, আধার আইনের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আধার বাসস্থান বা নাগরিকত্বের প্রমাণ হবে না এবং সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে বলেছে যে আধার জন্মতারিখের প্রমাণ নয়।