রোহিত-বিরাটের ‘ফর্ম’ ধরে রাখার উপায় কী? অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে পরিকল্পনার কথা জানালেন অধিনায়ক শুভমান গিল

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় ক্রিকেটে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে—যেহেতু এই দুই তারকা এখন কেবল সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলছেন, তাই ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য মাঝের দীর্ঘ বিরতিতে তাঁরা নিজেদের খেলার ছন্দে ধরে রাখবেন কীভাবে?
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ওয়ানডেতে রোহিত অপরাজিত ১২১ এবং বিরাট অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৯ উইকেটে দারুণ জয় এনে দিয়েছেন। এরপরই সিনিয়রদের ছন্দে থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
মাঝের আন্তর্জাতিক বিরতি: বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এবং আগামী দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের (নভেম্বর ৩০, ডিসেম্বর ৩ ও ৬) মধ্যে রয়েছে এক মাসের ব্যবধান। আবার দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ এবং নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের (জানুয়ারি ১১, ২০২৬ থেকে শুরু) মধ্যে থাকবে প্রায় সাত সপ্তাহের দীর্ঘ বিরতি।
এই দীর্ঘ বিরতিতে দুই সিনিয়র তারকাকে কীভাবে ‘গেম টাইম’ বা ম্যাচ খেলার সময় দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে দলের অধিনায়ক শুভমান গিল বলেন, আপাতত কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর: পোস্ট-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে শুভমান গিল বলেন, “আমরা এখনও এই বিষয়ে কথা বলিনি। তবে আমার মনে হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর (৬ ডিসেম্বর) এবং নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের আগে যখন একটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিরতি থাকবে, তখনই আমরা দেখব কীভাবে খেলোয়াড়দের ছন্দে রাখা যায়। তখনই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
চলতি মরসুমে রোহিত (৩৮) ও কোহলির (৩৬) জন্য মাত্র ৬টি ওয়ানডে ম্যাচ (দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৩টি ও নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে ৩টি) বাকি থাকায় ‘গেম টাইম’ একটি বড় সমস্যা হতে পারে। তবে জানা যাচ্ছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা বিজয় হাজারে ট্রফিতে (জাতীয় একদিনের টুর্নামেন্ট) তাঁরা নিজ নিজ রাজ্যের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেন, যা তাঁদের ছন্দে থাকতে সাহায্য করবে।
তরুণ অধিনায়ক মুগ্ধ: দুই সিনিয়র তারকার এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ তরুণ অধিনায়ক গিল। তিনি বলেন, “তাঁরা গত ১৫ বছর ধরে এই কাজটিই করছেন। তাঁদের এভাবে খেলতে দেখা এবং দলকে অপরাজিত অবস্থায় জয় এনে দিতে দেখা সত্যিই এক দারুণ অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা যখন ম্যাচ জেতান, তখন বাইরে থেকে খেলা দেখা অধিনায়কের জন্য তা অত্যন্ত ভাল লাগার মতো বিষয়। গিল বলেন, “তাঁদের ব্যাট থেকে বল উড়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং যে শব্দ আসে, তা বলে দেয় যে তাঁরা দু’জনই কতটা ভাল ফর্মে আছেন।” গিল মনে করিয়ে দেন, দলীয় বৈঠকে যে বিষয়টি নিয়ে সবসময় আলোচনা হয়—অর্থাৎ, যে সেট হবে, সে-ই ম্যাচ শেষ করে আসবে—তাঁরা দু’জন সেটাই করে দেখিয়েছেন।c