দিল্লির বাতাস ‘ভয়ঙ্কর’ খারাপ, AQI ৩০০ পার! দূষণ মোকাবিলায় ক্লাউড সিডিং করে কৃত্রিম বৃষ্টির উদ্যোগ রাজধানীতে

জাতীয় রাজধানীর বায়ুর গুণমান আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার সকালে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) আরও খারাপ হয়ে ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) বিভাগে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে যা ‘খারাপ’ বিভাগে ছিল।
CPCB-এর তথ্য বলছে, লোধি রোডে AQI ২৮৭ রেকর্ড করা হয়েছে। ইন্ডিয়া গেট এবং তার আশেপাশের এলাকায় সূচকটি ছিল ৩২৫, যা উদ্বেগজনকভাবে ‘খুব খারাপ’ স্তরে। আশ্রম এবং মহারানি বাগের মতো এলাকাতেও একই রকম খারাপ বাতাসের মান রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (GRAP) দ্বিতীয় পর্যায় ইতিমধ্যে কার্যকর রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক-মাউন্টেড ওয়াটার স্প্রিংকলার মোতায়েন করে ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
ক্লাউড সিডিংই এখন একমাত্র আশা: ক্রমবর্ধমান দূষণ মোকাবিলায় দিল্লি সরকার এবার অভিনব পথে হাঁটছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় রাজধানীর জন্য ‘ক্লাউড সিডিং’ (কৃত্রিম বৃষ্টিপাত) এখন এক অপরিহার্য প্রয়োজন। তিনি এটিকে শহরের স্থায়ী পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় একটি অগ্রণী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেখা গুপ্তা বলেন, “ক্লাউড সিডিং দিল্লির জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় এবং এটি এই ধরণের প্রথম পরীক্ষা। আমরা দেখতে চাই এটি এই গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে কিনা।” তিনি আরও জানান, ২৯ অক্টোবর কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য সরকার শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে, কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লির আকাশে মেঘ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা: এদিকে, ক্রমবর্ধমান দূষণের গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন এইমসের প্রাক্তন ডিরেক্টর ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি জানান, বর্তমানে বায়ুদূষণের উচ্চ মাত্রা বিশেষ করে হৃদপিণ্ড বা ফুসফুসের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তি, বয়স্ক এবং ছোট শিশুদের মধ্যে তীব্র স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।
ডঃ গুলেরিয়ার মতে, এমনকি সুস্থ ব্যক্তিরাও নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, বুকে চাপ এবং কাশির মতো উপসর্গে ভুগছেন। দূষণকারী পদার্থের কারণে শ্বাসনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সবুজ বাজি’-র অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বাজি ফাটানো বায়ুদূষণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।