মোবাইলে ইউটিউব দেখার সময় ডেটা খরচ কমানোর ৫ কায়দা, জেনেনিন সেটিং

বর্তমান সময়ে মানুষের অবসর কাটানোর প্রধান সঙ্গী হলো তার স্মার্টফোন ও ইউটিউব অ্যাপ। কিন্তু নিয়মিত ভিডিও স্ট্রিমিং-এর কারণে অনেকের মোবাইল ডেটা দ্রুত ফুরিয়ে যায়। সীমিত ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সত্যিই এক বড় সমস্যা।
তবে কিছু ছোট্ট সেটিংস বদল করে আপনি কম ডেটা খরচে এবং বিনা চিন্তায় ইউটিউবে ভিডিও উপভোগ করতে পারেন। ডেটা সাশ্রয়ের এমন ৫টি অব্যর্থ কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
১. ভিডিও কোয়ালিটি কমিয়ে দেখুন
ইউটিউব অ্যাপের মধ্যে থাকা ভিডিওর মান বা ‘কোয়ালিটি’ অপশন থেকেই ডেটা খরচ কমানো সবচেয়ে সহজ।
- ভিডিওর নিচে থাকা গিয়ার বা সেটিংস চিহ্নে যান।
- এরপর ‘কোয়ালিটি’ (Quality) অপশনে যান।
- সেখান থেকে ‘ডেটা সেভার’ বা $১৪৪$পি / $২৪০$পি / $৩৬০$পি বেছে নিন।
এতে ভিডিও কিছুটা কম স্পষ্ট দেখাবে, কিন্তু ডেটা খরচ হবে অবিশ্বাস্য কম।
২. ইউটিউবের ‘ডেটা সেভার মোড’ চালু করুন
ইউটিউবের বিল্ট-ইন ‘ডেটা সেভার মোড’ চালু করলে অ্যাপ নিজে থেকেই ভিডিওর মান সীমিত রাখে। এর ফলে প্রতিটি ভিডিওর মান আলাদা করে পরিবর্তন করতে হয় না।
- ইউটিউব অ্যাপে যান → সেটিংস (Settings) → ডেটা সেভিং (Data Saving) এ যান।
- ‘ডেটা সেভার’ অপশনটি চালু বা অন করুন।
৩. ওয়াই–ফাই ছাড়া ভিডিও ডাউনলোড করবেন না
ভিডিও অফলাইনে দেখার জন্য আমরা প্রায়শই ‘ডাউনলোড’ বাটনে চাপ দিই। কিন্তু মোবাইল ডেটা চালু থাকলে এতে প্রচুর ডেটা খরচ হয়। তাই শুধুমাত্র তখনই ভিডিও ডাউনলোড করুন, যখন আপনি ওয়াই–ফাইতে সংযুক্ত আছেন।
৪. ‘অটো–প্লে’ বন্ধ রাখুন
ইউটিউবের ‘অটো–প্লে’ (Auto-Play) ফিচার চালু থাকলে একটি ভিডিও শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পরের ভিডিওটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এতে আপনি অজান্তেই প্রচুর ডেটা খরচ করে ফেলেন।
- ইউটিউবের হোম স্ক্রিনে বা ভিডিও প্লেয়ারের নিচে থাকা ‘অটো–প্লে’ বাটনটি বন্ধ করে দিন।
৫. ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন
ইউটিউব অ্যাপ অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকেও কিছু ডেটা ব্যবহার করে। এটি বন্ধ করতে আপনার ফোনের সেটিংসে যান:
- সেটিংস (Settings) → অ্যাপস (Apps) → ইউটিউব (YouTube) → মোবাইল ডেটা অ্যান্ড ওয়াই–ফাই (Mobile Data & Wi-Fi) → ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা অফ (Background Data Off) করুন।
মনে রাখবেন, ডেটা সাশ্রয় মানেই লো-কোয়ালিটি ভিডিও দেখা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ভিডিওর রেজোলিউশন একটু কমিয়ে বা সঠিক সময়ে ডাউনলোড করে ডেটা এবং স্মার্টফোন ব্যাটারি— দুটোই বাঁচানো যায়।