বিশেষ: ভাল টাকা কামিয়েও শেষে সেভিংস ‘জিরো’? পয়সা জমান এই ৫ টিপসে

অনেকের রোজগার ভালো, কিন্তু মাস শেষে সঞ্চয় (Savings) বলতে কিছুই থাকে না। যা আয় করেন, তার সবটাই খরচ হয়ে যায়। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে মাস শেষে প্রয়োজনে অন্যদের থেকে ধারও নিতে হয়। সাধারণ মানুষের এই প্রবণতা দেখে রীতিমতো চমকে ওঠেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঞ্চয় না থাকলে ভবিষ্যতে বড় বিপদে পড়তে হবে, এমনকি অবসর জীবনও কষ্টের হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা তাই এমন কিছু সহজ টিপস দিয়েছেন, যা দৈনন্দিন অভ্যাসে আনলে অনায়াসে সেভিংস করা সম্ভব, সুরক্ষিত হবে আপনার ভবিষ্যৎ।

১. সবার আগে বাজেট তৈরি করুন

সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ হলো বাজেট তৈরি করা। আজই বসে ঠিক করে নিন কোন খাতে কত টাকা খরচ করবেন। সেই অনুযায়ী হিসেব মেনে চলুন। এই নিয়মের এদিক-ওদিক হলে চলবে না। এই সাধারণ নিয়মটি মানলেই দেখবেন মাস শেষে আপনার হাতে বাড়তি টাকা থাকছে।

২. প্রথমেই সেভিংস করুন, তারপর খরচ

এই অভ্যাসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাইনে পেলেই প্রথমে খরচ করবেন না। বরং, মাসের শুরুতেই আপনাকে সেভিংস করতে হবে। আপনার মোট আয়ের একটি অংশ (অন্তত ৩০ শতাংশ) প্রথমেই SIP, LIC বা অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলুন। একবার বিনিয়োগ করে ফেললে আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন। এরপর বাকি টাকা খরচ করতে পারেন।

৩. অপ্রয়োজনে খরচ নয়

আপনাকে নিজের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে। আর সেটা আজ থেকেই শুরু করতে হবে। যে কোনও ধরনের খরচ, যেটা না করলেও আপনার চলে যায়, সেটা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, কোনটা আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয়, সেটা আপনাকেই কঠোরভাবে ঠিক করতে হবে। তাহলেই দেখবেন আপনার পকেটে পয়সা বাঁচবে।

৪. অহেতুক লোন নেবেন না

অনেকেই ছোট-বড় লোনের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার EMI দিতে দিতেই আয়ের একটা বড় অংশ বেরিয়ে যায়। এখন থেকে অহেতুক লোন নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ধার করে নতুন ফোন বা ল্যাপটপ কিনবেন না। এই অভ্যাসটি বন্ধ করতে পারলেই সেভিংসের টাকা জমতে শুরু করবে।

৫. খরচের হিসাব লিখে রাখুন

বাজেট মেনে চলতে চাইলে আপনার খরচ নিয়ে সাবধান হতে হবে। প্রতিদিন কোথায় কত টাকা খরচ করছেন, সেটা লিখে রাখা জরুরি। এর ফলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি আপনার নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে রয়েছেন কি না। সেই মতো পরবর্তী দিনগুলিতে আপনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এই স্বচ্ছতা বজায় রাখলে টাকা হাতে থাকবেই।

বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত পরামর্শ:

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসে অন্তত মোট আয়ের ৩০ শতাংশ জমাতে হবে। যেকোনো উপায়েই হোক এই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললেই দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে এবং আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়ে গেছে।