শান্তির পথে বাধা: হমাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন—অমীমাংসিত প্রশ্ন

গাজায় ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পর বর্তমানে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি পরিস্থিতিকে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলে নাগরিক ও সামরিক সহযোগিতার জন্য নতুন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স এবং অন্যান্য দূতরা এই আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

ভেন্স স্বীকার করেছেন যে সম্প্রতি কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও, গত দু’বছরের যুদ্ধের পর ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি ‘আশা করা চেয়েও ভালো’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পশ্চিম এশিয়ার দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, “আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে পৌঁছানোর কথা আমরা কল্পনাও করিনি।”

শান্তি বজায় না থাকলে হামাসকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি

যুদ্ধবিরতির মাঝেও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে: হামাস কি নিরস্ত্রীকরণ করবে? গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী কখন এবং কীভাবে মোতায়েন করা হবে? এবং যুদ্ধের পরে এই অঞ্চলটি কে শাসন করবে?

জেডি ভেন্স বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে এই শান্তি দীর্ঘকাল ধরে থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে, যদি হামাস সহযোগিতা না করে, তবে তাদের “নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে” (will be “wiped out”)।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যুদ্ধবিরতির জটিলতা উল্লেখ করে বলেছেন, “উভয় পক্ষই দুই বছরের তীব্র লড়াই থেকে এখন শান্তির পরিস্থিতিতে আসার চেষ্টা করছে।” ভেন্স বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই অঞ্চলে থাকবেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ত্যাচি হানেগবিকে বরখাস্ত করেছেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হানেগবি মার্চ মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিরোধিতা করেছিলেন।