নবজাতক কিনে নিঃসন্তান দম্পতিকে বিক্রি! ১০ বছর ধরে জাল ডিএনএ রিপোর্টে চলত কোটি কোটি টাকার লেনদেন, ফাঁস করল ED

ফার্টিলিটি ক্লিনিকের আড়ালে প্রায় এক দশক ধরে চলা এক চাঞ্চল্যকর শিশুবিক্রি চক্রের পর্দা ফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। হায়দরাবাদের ‘ইউনিভার্সাল সৃষ্টি ফার্টিলিটি সেন্টার’ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ এ. নম্রতার আর্থিক লেনদেনের দিকে এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কড়া নজর।

ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি সারোগেসি, প্রতারণা ও নবজাতক বিক্রির মাধ্যমে এই ক্লিনিক কোটি কোটি টাকা লেনদেন করত। প্রায় ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে শিশু বিক্রি করা হত নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে।

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইডি-র জেরা

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর চিকিৎসক ডঃ নম্রতাকে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী জেরা করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে গরিব মহিলাদের কাছ থেকে শিশু ‘কেনার’ পর তা চড়া দামে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে ‘বিক্রি’ করা হতো। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়ায় ডিএনএ রিপোর্ট পর্যন্ত জাল করা হতো।

২০১৯ সাল থেকে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর ইডি এই ঘটনার ECIR (এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট) নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, বহু দম্পতিকে ‘আইভিএফ’ বা ‘সারোগেসি’-র নামে প্রতারণা করা হয়েছিল এবং তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল।

জালিয়াতির নেটওয়ার্ক তেলেঙ্গানা-অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে, কলকাতায় যোগসূত্র?

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বেআইনি নেটওয়ার্ক তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক শহর—হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল। এমনকি প্রাথমিক অনুমান, ২০২১ সালে ক্লিনিকটির লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও গোপনে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। সূত্রের খবর, এই চক্রের যোগসূত্র পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেও পৌঁছেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

২৫ জন গ্রেফতার, সরকারি চিকিৎসকরাও সন্দেহের তালিকায়

গত মাসেই অভিযুক্তদের ক্লিনিক, বাড়ি ও অফিসে ইডি নয়টি স্থানে তল্লাশি চালায়। উদ্ধার হয় বিশাল অঙ্কের লেনদেন-সংক্রান্ত একাধিক নথি। জানা গিয়েছে, দম্পতিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নগদ টাকা দিতেন, যা কুরিয়ার মারফত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হতো।

এই মামলার তদন্তে হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ক্রাইম স্টেশনের বিশেষ দলও যুক্ত আছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসক, এজেন্ট ও টেকনিশিয়ান-সহ মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের কয়েকজন চিকিৎসক এই চক্রে জড়িত সন্দেহে সাসপেন্ডও হয়েছেন। ইডি-র প্রবেশে এই জালিয়াতির আরও অনেক দিক এবং অবৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পত্তির হদিশ মিলবে বলে তদন্তকারী সংস্থা আশাবাদী।