মিরিক ট্রাজেডি! ১৯ আরোহী নিয়ে ভয়ঙ্কর খাদে গাড়ি, মৃত অন্তত ৪, আশঙ্কাজনক ১৫ জন

উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মিরিকে বেড়াতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত চারজন পর্যটক। বুধবার দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি-মিরিক সংযোগকারী পথে পুটুং-এর কাছে নলডারা অঞ্চলে। যাত্রীবোঝাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। ঘটনায় চালক সহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে।
যা জানা যাচ্ছে দুর্ঘটনার কারণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভারত-নেপাল সীমান্ত অঞ্চল পানিট্যাঙ্কি থেকে ১৯ জন পর্যটক একটি গাড়িতে মিরিকের দিকে রওনা হন। নেপালের কাঁকরভিটা থেকে আসা এই গাড়িটি বিকল্প পথ পানিঘাটা হয়ে নকশালবাড়ির বেলগাছি, পুটুং ঘুরে মিরিকের উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুর্গম পাহাড়ি পথে গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেননি।
তবে ঘটনার আকস্মিকতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালক-সহ মোট ১২ জনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় গাড়িটিতে দুই শিশু সহ ১৯ জন আরোহী ছিলেন। নলডারার কাছে উলটো দিক থেকে আসা একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়েই কিছুটা পিছনে আসতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলেই যাত্রীবোঝাই গাড়িটি গভীর খাদে উলটে পড়ে যায়।
মৃত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ধনবাহাদুর (নেপালের কাটোয়ার বাসিন্দা), সজনী ছেত্রী (নকশালবাড়ির নিরপানি), এবং বিনিতা তামাং ও ওয়াংচু তামাং (উভয়েই মিরিকের সোরাসালে অঞ্চলের বাসিন্দা)। গাড়ির চালক রাকেশ রুচেল-সহ অন্য যাত্রীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অস্থায়ী রাস্তা চালুর দাবি, সরব অনীত থাপা
এই দুর্ঘটনার পরই দ্রুত দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপরে নির্মীয়মাণ অস্থায়ী রাস্তা চালুর দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুধিয়ার প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকায় পুটুং, নলডারার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এই অতিরিক্ত ঝুঁকিই আজকের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এদিকে, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “খবর পেয়েই সৌরিনীর সভাসদ অরুন শিংজিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।”