মুহূর্তে যুদ্ধের রং বদলে দেয়! মাঝ আকাশে ফাইটার জেটে তেল ভরা, জানেন কি অত্যাধুনিক এই ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং’ কতটা ব্যয়বহুল?

আধুনিক যুদ্ধে ফাইটার জেট (Fighter Jet) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। আকাশ থেকে বোমা বা মিসাইলের সাহায্যে মুহূর্তে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই যুদ্ধবিমানগুলো। আর আধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যাতে দীর্ঘক্ষণ আকাশে উড়তে পারে, সেজন্য উড়তে উড়তেই তেল ভরার বিশেষ ব্যবস্থা থাকে, যাকে বলা হয় ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং’ (Mid-Air Refuelling)।পদ্ধতি ও চ্যালেঞ্জমাঝ আকাশে তেল ভরার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি ট্যাঙ্কার বিমান। এই ট্যাঙ্কার বিমান থেকে একটি তেলের পাইপ বেরিয়ে আসে, যা ফাইটার জেটের সামনের অংশে থাকা একটি সরু পাইপের মতো জিনিসে গিয়ে আটকে যায়। এই সংযোগের মাধ্যমেই তেল সরবরাহ করা হয়। যদিও এই প্রক্রিয়াটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে হয়।খরচের হিসেব: এক ঘণ্টার উড়ানে কত টাকা?এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এর আকাশছোঁয়া খরচ।বিমানের ধরণএকক খরচের পরিমাণভারতীয় মুদ্রায় (প্রায়)এফ-১৬ (আমেরিকার)প্রতি ঘণ্টায় $2,900 থেকে $3,000₹২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ₹২ লক্ষ ৬৫ হাজারমাঝ আকাশে তেল ভরার খরচপ্রতি ফিলিং-এ প্রায় $14,000₹১২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকাউল্লেখ্য, লকহিড মার্টিনের এই এফ-১৬ ‘ফাইটিং ফ্যালকন’ যুদ্ধবিমান পাক বায়ুসেনা ব্যবহার করে।ভারতের সক্ষমতাভারতের কাছে থাকা ফরাসি রাফাল (Rafale), সুপার সুখোই বা সু-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) কিংবা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস (Tejas)—সবকটি যুদ্ধবিমানই মাঝ আকাশে তেল ভরতে সক্ষম। ফলে নয়াদিল্লি চাইলেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সীমানা থেকে দূরের কোনো অঞ্চলে আক্রমণের পরিকল্পনা করতে পারে।প্রধান খরচ কোথায়?তবে এই মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় খরচ হলো ওই তেলের ট্যাঙ্কার ও তার রক্ষণাবেক্ষণ। এমন একটি ট্যাঙ্কার বিমানের দামই হতে পারে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ ডলার। এর উপর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ভরার অন্যান্য খরচ যোগ করলে, সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।